সূরা ৫০ · মাক্কী

ক্বাফ

Qaf · ক্বাফ · ৪৫ আয়াত

ق
100%
সূরা পরিচিতি ও নাযিলের প্রেক্ষাপট

নামকরণ সূরার প্রথম বর্ণটিই এর নাম হিসেবে গৃহীত হয়েছে। অর্থাৎ এটি সেই সূরা যা ক্বাফ বর্ণ দিয়ে শুরু হয়েছে। নাযিল হওয়ার সময়-কাল ঠিক কোন্ সময় এ সূরা নাযিল হয়েছে তা কোন নির্ভরযোগ্য বর্ণনা থেকে জানা যায় না। তবে এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করলে বুঝা যায়, এটি মক্কী যুগের দ্বিতীয় পর্যায়ে নাযিল হয়েছে। মক্কী যুগের দ্বিতীয় পর্যায় নবুওয়াতের তৃতীয় সন থেকে শুরু করে পঞ্চম সন পর্যন্ত বিস্তৃত। আমি সূরা আন’আমের ভূমিকায় এ যুগের বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করেছি। ঐসব বৈশিষ্ট্যের প্রতি লক্ষ্য রেখে বিচার করলে মোটামুটি অনুমান করা যায় যে, সূরাটি নবুওয়াতের পঞ্চম বছরে নাযিল হয়ে থাকবে। এ সময় কাফেরদের বিরোধিতা বেশ কঠোরতা লাভ করেছিল। কিন্তু তখনো জুলুম-নির্যাতন শুরু হয়নি। বিষয়বস্তু ও মূল বক্তব্য নির্ভরযোগ্য বর্ণনাসমূহ থেকে জানা যায় যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অধিকাংশ ক্ষেত্রে দু’ ঈদের নামাযে এ সূরা পড়তেন। উম্মে হিশাম ইবনে হারেসা নাম্নী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতিবেশিনী এক মহিলা বর্ণনা করেছেন যে, প্রায়ই আমি নবীর (সা.) মুখ থেকে জুমআর খুতবায় এ সূরাটি শুনতাম এবং শুনতে শুনতেই তা আমার মুখস্ত হয়েছে। অপর কিছু রেওয়ায়াতে আছে যে, তিনি বেশীর ভাগ ফজরের নামাযেও এ সূরাটি পাঠ করতেন। এ থেকে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায় যে, নবীর (সা.) দৃষ্টিতে এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ সূরা। সেজন্য এর বিষয়বস্তু অধিক সংখ্যক লোকের কাছে পৌঁছানোর জন্য বারবার চেষ্টা করতেন। সূরাটি মনোনিবেশ সহকারে পাঠ করলে এর গুরুত্বের কারণ সহজেই উপলব্ধি করা যায়। গোটা সূরার আলোচ্য বিষয় হচ্ছে আখেরাত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা মুয়াযযমায় দাওয়াতের কাজ শুরু করলে মানুষের কাছে তাঁর যে কথাটি সবচেয়ে বেশী অদ্ভূদ মনে হয়েছিল তা হচ্ছে, মৃত্যুর পর পুনরায় মানুষকে জীবিত করে উঠানো হবে এবং তাদেরকে নিজের কৃতকর্মের হিসেব দিতে হবে। লোকজন বলতো, এটা তো একেবারেই অসম্ভব ব্যাপার। এরূপ হতে পারে বলে বিবেক-বুদ্ধি বিশ্বাস করে না। আমাদের দেহের প্রতিটি অণু-পরমাণু যখন মাটিতে মিশে বিলীন হয়ে যাবে তখন হাজার হাজার বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর ঐসব বিক্ষিপ্ত অংশকে পুনরায় একত্রিত করে আমাদের দেহকে পুনরায় তৈরী করা হবে এবং আমরা জীবিত হয়ে যাব তা কি করে সম্ভব? এর জবাবে আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে এ ভাষণটি নাযিল হয়। এতে অত্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে ছোট ছোট বাক্যে একদিকে আখেরাতের সম্ভাব্যতা ও তা সংঘটিত হওয়া সম্পর্কে প্রমাণাদি পেশ করা হয়েছে। অপরদিকে মানুষকে এ মর্মে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে যে, তোমরা বিস্মিত হও, বিবেক-বুদ্ধি বিরোধী মনে করো কিংবা মিথ্যা বলে মনে করো তাতে কোন অবস্থায়ই সত্য পরিবর্তিত হতে পারে না। সত্য তথা অকাট্য ও অটল সত্য হচ্ছে এই যে, তোমাদের দেহের এক একটি অণু-পরমাণু যা মাটিতে বিলীন হয়ে যায় তা কোথায় গিয়েছে এবং কি অবস্থায় কোথায় আছে সে সম্পর্কে আল্লাহ অবহিত আছেন। বিক্ষিপ্ত এসব অণু-পরমাণু পুনরায় একত্রিত হয়ে যাওয়া এবং তোমাদেরকে ইতিপূর্বে যেভাবে সৃষ্টি করা হয়েছিল ঠিক সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করার জন্য আল্লাহ তা’আলার একটি ইঙ্গিতই যথেষ্ট। অনুরূপভাবে তোমাদের এ ধারণাও একটি ভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই নয় যে, এখানে তোমাদের লাগামহীন উটের মত ছেড়ে দেয়া হয়েছে, কারো কাছে তোমাদের জবাবদিহি করতে হবে না। প্রকৃত ব্যাপার এই যে, আল্লাহ তা’আলা নিজেও সরাসরি তোমাদের প্রতিটি কথা ও কাজ সম্পর্কে এমনকি তোমাদের মনের মধ্যে জেগে ওঠা সমস্ত ধারণা ও কল্পনা পর্যন্ত অবহিত আছেন। তাছাড়া তাঁর ফেরেশতারাও তোমাদের প্রত্যেকের সাথে থেকে তোমাদের সমস্ত গতিবিধি রেকর্ড করে সংরক্ষিত করে যাচ্ছে। যেভাবে বৃষ্টির একটি বিন্দু পতিত হওয়ার পর মাটি ফুড়ে উদ্ভিদরাজির অঙ্কুর বেরিয়ে আসে তেমনি নির্দিষ্ট সময় আসা মাত্র তাঁর একটি মাত্র আহবানে তোমরাও ঠিক তেমনি বেরিয়ে আসবে। আজ তোমাদের বিবেক-বুদ্ধির ওপর গাফলতের যে পর্দা পড়ে আছে তোমাদের সামনে থেকে সেদিন তা অপসারিত হবে এবং আজ যা অস্বীকার করছো সেদিন তা নিজের চোখে দেখতে পাবে। তখন তোমরা জানতে পারবে, পৃথিবীতে তোমরা দায়িত্বহীন ছিলে না, বরং নিজ কাজ-কর্মের জন্য দায়ী ছিলে। পুরস্কার ও শাস্তি, আযাব ও সওয়াব এবং জান্নাত ও দোযখ যেসব জিনিসকে আজ তোমরা আজব কল্প কাহিনী বলে মনে করছো সেদিন তা সবই তোমাদের সামনে বাস্তব সত্য হয়ে দেখা দেবে। যে জাহান্নামকে আজ বিবেক-বুদ্ধির বিরোধী বলে মনে করো সত্যের সাথে শত্রুতার অপরাধে সেদিন তোমাদের সেই জাহান্নামেই নিক্ষেপ করা হবে। আর যে জান্নাতের কথা শুনে আজ তোমরা বিস্মিত হচ্ছো মহা দয়ালু আল্লাহকে ভয় করে সঠিক পথে ফিরে আসা লোকেরা সেদিন তোমাদের চোখের সামনে সেই জান্নাতে চলে যাবে।

৫০:

﴿قٓ‌‌ۚ وَالۡقُرۡاٰنِ الۡمَجِيۡدِ‌ۚ‏﴾

ক্বাফ, মহিমান্বিত কল্যাণময় কুরআনের শপথ। [১]

৫০:

﴿ بَلۡ عَجِبُوۡۤا اَنۡ جَآءَهُمۡ مُّنۡذِرٌ مِّنۡهُمۡ فَقَالَ الۡكٰفِرُوۡنَ هٰذَا شَىۡءٌ عَجِيۡبٌ‌ۚ‏﴾

তারা বরং বিস্মিত হয়েছে এজন্য যে, তাদের কাছে তাদের মধ্য থেকেই একজন সতর্ককারী এসেছে। [২] এরপর অস্বীকারকারীরা বলতে শুরু করলো এটা তো বড় আশ্চর্যজনক কথা,

৫০:

﴿ اَءِذَا مِتۡنَا وَكُنَّا تُرَابًا ‌ۚ ذٰلِكَ رَجۡعٌۢ بَعِيۡدٌ‏﴾

আমরা যখন মরে যাব এবং মাটিতে মিশে যাব (তখন কি আমাদের উঠানো হবে)? এ প্রত্যাবর্তন তো যুক্তি-বুদ্ধি বিরোধী। [৩]

৫০:

﴿ قَدۡ عَلِمۡنَا مَا تَنۡقُصُ الۡاَرۡضُ مِنۡهُمۡ‌ۚ وَعِنۡدَنَا كِتٰبٌ حَفِيۡظٌ‏﴾

অথচ মাটি তার দেহের যা কিছু খেয়ে ফেলে তা সবই আমার জানা। আমার কাছে একখানা কিতাব আছে। তাতে সবকিছু সংরক্ষিত আছে। [৪]

৫০:

﴿ بَلۡ كَذَّبُوۡا بِالۡحَقِّ لَمَّا جَآءَهُمۡ فَهُمۡ فِىۡۤ اَمۡرٍ مَّرِيۡجٍ‏﴾

এসব লোকেরা তো এমন যে, যখনই তাদের কাছে সত্য এসেছে, তখনই তারা তাকে মিথ্যা মনে করেছে। এ কারণেই তারা এখন দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে আছে। [৫]

৫০:

﴿ اَفَلَمۡ يَنۡظُرُوۡۤا اِلَى السَّمَآءِ فَوۡقَهُمۡ كَيۡفَ بَنَيۡنٰهَا وَزَيَّنّٰهَا وَمَا لَهَا مِنۡ فُرُوۡجٍ‏﴾

আচ্ছা, [৬] এরা কি কখনো এদের মাথার ওপরের আসমানের দিকে তাকায়নি? আমি কিভাবে তা তৈরী করেছি এবং সজ্জিত করেছি। [৭] তাতে কোথাও কোন ফাটল নেই। [৮]

৫০:

﴿ وَالۡاَرۡضَ مَدَدۡنٰهَا وَاَلۡقَيۡنَا فِيۡهَا روَاسِىَ وَاَنۡۢبَتۡنَا فِيۡهَا مِنۡ كُلِّ زَوۡجٍۢ بَهِيۡجٍۙ‏﴾

ভূপৃ‌ষ্ঠকে আমি বিছিয়ে দিয়েছি, তাতে পাহাড় স্থাপন করেছি এবং তার মধ্যে সব রকম সুদৃশ্য উদ্ভিদরাজি উৎপন্ন করেছি। [৯]

৫০:

﴿ تَبۡصِرَةً وَّذِكۡرٰى لِكُلِّ عَبۡدٍ مُّنِيۡبٍ﴾

এসব জিনিসের সবগুলোই দৃষ্টি উন্মুক্তকারী এবং শিক্ষাদানকারী ঐ সব বান্দার জন্য যারা সত্যের দিকে প্রত্যাবর্তন করে।

৫০:

﴿وَنَزَّلۡنَا مِنَ السَّمَآءِ مَآءً مُّبٰرَكًا فَاَنۡۢبَتۡنَا بِهٖ جَنّٰتٍ وَّحَبَّ الۡحَصِيۡدِۙ﴾

আমি আসমান থেকে বরকতপূর্ণ পানি নাযিল করেছি। অতঃপর তা দ্বারা বাগান ও খাদ্য শস্য উৎপন্ন করেছি।

৫০:১০

﴿ وَالنَّخۡلَ بَاسِقٰتٍ لَّهَا طَلۡعٌ نَّضِيۡدٌۙ﴾

তাছাড়া থরে থরে সজ্জিত ফলভর্তি কাঁদি বিশিষ্ট দীর্ঘ সুউচ্চ খেজুর গাছ।

৫০:১১

﴿ رِّزۡقًا لِّلۡعِبَادِ‌ ۙ وَاَحۡيَيۡنَا بِهٖ بَلۡدَةً مَّيۡتًا‌ؕ كَذٰلِكَ الۡخُرُوۡجُ‏﴾

এটা হচ্ছে বান্দাহদেরকে রিযিক দেয়ার ব্যবস্থা। এ পানি দ্বারা আমি মৃত ভূমিকে জীবন দান করি। [১০] (মৃতু মানুষের মাটি থেকে) বেরিয়ে আসাও এভাবেই হবে। [১১]

৫০:১২

﴿ كَذَّبَتۡ قَبۡلَهُمۡ قَوۡمُ نُوۡحٍ وَّاَصۡحٰبُ الرَّسِّ وَثَمُوۡدُۙ﴾

এদের আগে নূহের কওম, আসহাবুর রাস, [১২] সামূদ,

৫০:১৩

﴿ وَعَادٌ وَّفِرۡعَوۡنُ وَاِخۡوَانُ لُوۡطٍۙ‏﴾

আদ, ফেরাউন, [১৩] লূতের ভাই,

৫০:১৪

﴿ وَّاَصۡحٰبُ الۡاَيۡكَةِ وَقَوۡمُ تُبَّعٍ‌ؕ كُلٌّ كَذَّبَ الرُّسُلَ فَحَقَّ وَعِيۡدِ﴾

আইকাবাসী এবং তুব্বা কওমের [১৪] লোকেরাও অস্বীকার করেছিল। [১৫] প্রত্যেকেই রসূলদের অস্বীকার করেছিল [১৬] এবং পরিণামে আমার শাস্তির প্রতিশ্রুতি তাদের জন্য কার্যকর হয়েছে। [১৭]

৫০:১৫

﴿ اَفَعَيِيۡنَا بِالۡخَلۡقِ الۡاَوَّلِ‌ؕ بَلۡ هُمۡ فِىۡ لَبۡسٍ مِّنۡ خَلۡقٍ جَدِيۡدٍ‏﴾

আমি কি প্রথমবার সৃষ্টি করতে অক্ষম ছিলাম? আসলে নতুন করে সৃষ্টির ব্যাপারে এসব লোক সন্দেহে নিপতিত হয়ে আছে। [১৮]

৫০:১৬

﴿ وَلَقَدۡ خَلَقۡنَا الۡاِنۡسَانَ وَنَعۡلَمُ مَا تُوَسۡوِسُ بِهٖ نَفۡسُهٗ‌ ‌ۖ‌ۚ وَنَحۡنُ اَقۡرَبُ اِلَيۡهِ مِنۡ حَبۡلِ الۡوَرِيۡدِ﴾

আমি [১৯] মানুষকে সৃষ্টি করেছি আর তাদের মনে যেসব কুমন্ত্রণা উদিত হয় তা আমি জানি। আমি তার ঘাড়ের রগের চেয়েও তার বেশী কাছে আছি। [২০]

৫০:১৭

﴿ اِذۡ يَتَلَقَّى الۡمُتَلَقِّيٰنِ عَنِ الۡيَمِيۡنِ وَعَنِ الشِّمَالِ قَعِيۡدٌ‏﴾

(আমার এ সরাসরি জ্ঞান ছাড়াও) দু’জন লেখক তার ডান ও বাঁ দিকে বসে সবকিছু লিপিবদ্ধ করছে।

৫০:১৮

﴿ مَا يَلۡفِظُ مِنۡ قَوۡلٍ اِلَّا لَدَيۡهِ رَقِيۡبٌ عَتِيۡدٌ﴾

এমন কোন শব্দ তার মুখ থেকে বের হয় না যা সংরক্ষিত করার জন্য একজন সদা প্রস্তুত রক্ষক উপস্থিত থাকে না। [২১]

৫০:১৯

﴿ وَجَآءَتۡ سَكۡرَةُ الۡمَوۡتِ بِالۡحَقِّ‌ؕ ذٰلِكَ مَا كُنۡتَ مِنۡهُ تَحِيۡدُ‏﴾

তারপর দেখো, মৃত্যুর যন্ত্রণা পরম সত্য নিয়ে হাজির হয়েছে। [২২] এটা সে জিনিস যা থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলে। [২৩]

৫০:২০

﴿ وَنُفِخَ فِىۡ الصُّوۡرِ‌ؕ ذٰلِكَ يَوۡمُ الۡوَعِيۡدِ﴾

এরপর শিংগায় ফুৎকার দেয়া হলো। [২৪] এটা সেদিন যার ভয় তোমাদের দেখানো হতো।

৫০:২১

﴿ وَجَآءَتۡ كُلُّ نَفۡسٍ مَّعَهَا سَآٮِٕقٌ وَّشَهِيۡدٌ‏﴾

প্রত্যেক ব্যক্তি এমন অবস্থায় এসে হাজির হলো যে, তাদের সাথে হাঁকিয়ে নিয়ে আসার মত একজন এবং সাক্ষ্য দেয়ার মত একজন ছিল। [২৫]

৫০:২২

﴿ لَّقَدۡ كُنۡتَ فِىۡ غَفۡلَةٍ مِّنۡ هٰذَا فَكَشَفۡنَا عَنۡكَ غِطَآءَكَ فَبَصَرُكَ الۡيَوۡمَ حَدِيۡدٌ‏﴾

এ ব্যাপারে তুমি অজ্ঞ ছিলে। তাই তোমার সামনে যে আবরণ ছিল তা আমি সরিয়ে দিয়েছি। তাই আজ তোমার দৃষ্টি অত্যন্ত প্রখর। [২৬]

৫০:২৩

﴿ وَقَالَ قَرِيۡنُهٗ هٰذَا مَا لَدَىَّ عَتِيۡدٌ﴾

তার সাথী বললোঃ এতো সে হাজির আমার ওপরে যার তদারকীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। [২৭]

৫০:২৪

﴿ اَلۡقِيَا فِىۡ جَهَنَّمَ كُلَّ كَفَّارٍ عَنِيۡدٍۙ‏﴾

নির্দেশ দেয়া হলোঃ “জাহান্নামে নিক্ষেপ করো, [২৮] প্রত্যেক কট্টর কাফেরকে [২৯] ---যে সত্যের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতো,

৫০:২৫

﴿ مَّنَّاعٍ لِّلۡخَيۡرِ مُعۡتَدٍ مُّرِيۡبٍۙ﴾

কল্যাণের প্রতিবন্ধক [৩০] ও সীমালংঘনকারী ছিল, [৩১] সন্দেহ সংশয়ে নিপতিত ছিল [৩২]

৫০:২৬

﴿ الَّذِىۡ جَعَلَ مَعَ اللّٰهِ اِلٰهًا اٰخَرَ فَاَلۡقِيٰهُ فِىۡ الۡعَذَابِ الشَّدِيۡدِ‏﴾

এবং আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ইলাহ বানিয়ে বসেছিল। নিক্ষেপ কর তাকে কঠিন আযাবে। [৩৩]

৫০:২৭

﴿ قَالَ قَرِيۡنُهٗ رَبَّنَا مَاۤ اَطۡغَيۡتُهٗ وَلٰكِنۡ كَانَ فِىۡ ضَلٰلٍۢ بَعِيۡدٍ﴾

তার সহগামী আরয করলোঃ হে প্রভু, আমি তাকে বিদ্রোহী করিনি বরং সে নিজেই চরম গোমরাহীতে ডুবে ছিল। [৩৪]

৫০:২৮

﴿ قَالَ لَا تَخۡتَصِمُوۡا لَدَىَّ وَقَدۡ قَدَّمۡتُ اِلَيۡكُمۡ بِالۡوَعِيۡدِ‏﴾

জবাবে বলা হলোঃ আমার সামনে ঝগড়া করো না। আমি আগে তোমাদেরকে মন্দ পরিণতি সম্পর্কে সাবধান করে দিয়েছিলাম। [৩৫]

৫০:২৯

﴿ مَا يُبَدَّلُ الۡقَوۡلُ لَدَىَّ وَمَاۤ اَنَا۟ بِظَلّٰمٍ لِّلۡعَبِيۡدِ‏﴾

আমার কথার কোন রদবদল হয় না। [৩৬] আর আমি আমার বান্দাদের জন্য অত্যাচারী নই। [৩৭]

৫০:৩০

﴿ يَوۡمَ نَقُوۡلُ لِجَهَنَّمَ هَلِ امۡتَلَئْتِ وَتَقُوۡلُ هَلۡ مِنۡ مَّزِيۡدٍ﴾

সেদিনের কথা স্মরণ করো, যখন আমি জাহান্নামকে জিজ্ঞেস করবো যে, তোমার পেট কি ভরেছে? সে বলবে, “আরো কিছু আছে নাকি?” [৩৮]

৫০:৩১

﴿ وَاُزۡلِفَتِ الۡجَنَّةُ لِلۡمُتَّقِيۡنَ غَيۡرَ بَعِيۡدٍ‏﴾

আর বেহেশতকে আল্লাহ‌ ভীরুদের নিকটতর করা হবে- তা মোটেই দূরে থাকবে না। [৩৯]

৫০:৩২

﴿ هٰذَا مَا تُوۡعَدُوۡنَ لِكُلِّ اَوَّابٍ حَفِيۡظٍ﴾

তখন বলা হবেঃ এ হচ্ছে সেই জিনিস, যার কথা তোমাদেরকে আগাম জানানো হতো। এটা প্রত্যেক প্রত্যাবর্তনকারী [৪০] ও সংরক্ষণকারীর [৪১] জন্য,

৫০:৩৩

﴿ مَنۡ خَشِىَ الرَّحۡمٰنَ بِالۡغَيۡبِ وَجَآءَ بِقَلۡبٍ مُّنِيۡبِۙ‏﴾

যে অদেখা দয়াময়কে ভয় করতো, [৪২] যে অনুরক্ত হৃদয় নিয়ে এসেছে। [৪৩]

৫০:৩৪

﴿ ادۡخُلُوۡهَا بِسَلٰمٍ‌ؕ ذٰلِكَ يَوۡمُ الۡخُلُوۡدِ﴾

বেহেশতে ঢুকে পড় শান্তির সাথে। [৪৪] সেদিন অনন্ত জীবনের দিন হবে।

৫০:৩৫

﴿لَهُمۡ مَّا يَشَآءُوۡنَ فِيۡهَا وَلَدَيۡنَا مَزِيۡدٌ﴾

সেখানে তাদের জন্য যা চাইবে তাই থাকবে। আর আমার কাছে আরো কিছু অতিরিক্ত জিনিসও থাকবে। [৪৫]

৫০:৩৬

﴿ وَكَمۡ اَهۡلَكۡنَا قَبۡلَهُمۡ مِّنۡ قَرۡنٍ هُمۡ اَشَدُّ مِنۡهُمۡ بَطۡشًا فَنَقَّبُوۡا فِىۡ الۡبِلَادِؕ هَلۡ مِنۡ مَّحِيۡصٍ﴾

আমি তাদের আগে আরো বহু জাতিকে ধ্বংস করেছি। তারা ওদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিধর ছিল এবং তারা সারা দুনিয়ার দেশগুলো তন্ন তন্ন করে ঘুরেছে। [৪৬] অথচ তারা কি কোন আশ্রয়স্থল পেলো? [৪৭]

৫০:৩৭

﴿ اِنَّ فِىۡ ذٰلِكَ لَذِكۡرٰى لِمَنۡ كَانَ لَهٗ قَلۡبٌ اَوۡ اَلۡقَى السَّمۡعَ وَهُوَ شَهِيۡدٌ‏﴾

যাদের হৃদয় আছে কিংবা যারা একাগ্রচিত্তে কথা শোনে [৪৮] তাদের জন্য এ ইতিহাসে অনেক শিক্ষা রয়েছে।

৫০:৩৮

﴿ وَلَقَدۡ خَلَقۡنَا السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَمَا بَيۡنَهُمَا فِىۡ سِتَّةِ اَيَّامٍ‌ۖ وَّمَا مَسَّنَا مِنۡ لُّغُوۡبٍ﴾

আমি আকাশ ও পৃথিবী এবং তার মধ্যকার সকল জিনিসকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছি [৪৯] অথচ তাতে আমি ক্লান্ত হইনি।

৫০:৩৯

﴿ فَاصۡبِرۡ عَلٰى مَا يَقُوۡلُوۡنَ وَسَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّكَ قَبۡلَ طُلُوۡعِ الشَّمۡسِ وَقَبۡلَ الۡغُرُوۡبِ‌ۚ‏﴾

কাজেই তারা যেসব কথা তৈরী করছে তার ওপর ধৈর্যধারণ করো। [৫০] আর স্বীয় প্রভুর প্রশংসা সহকারে গুণগান করতে থাকো সূর্যোদয় ও সুর্যাস্তের আগে,

৫০:৪০

﴿ وَمِنَ الَّيۡلِ فَسَبِّحۡهُ وَاَدۡبَارَ السُّجُوۡدِ﴾

আবার রাতে পুনরায় তার গুণগান করো এবং সিজ্দা দেয়ার পরেও করো। [৫১]

৫০:৪১

﴿ وَاسۡتَمِعۡ يَوۡمَ يُنَادِ الۡمُنَادِ مِنۡ مَّكَانٍ قَرِيۡبٍۙ﴾

আর শোনো যেদিন আহ্বানকারী (প্রত্যেক মানুষের) নিকট স্থান থেকে আহ্বান করবে, [৫২]

৫০:৪২

﴿ يَوۡمَ يَسۡمَعُوۡنَ الصَّيۡحَةَ بِالۡحَقِّ‌ؕ ذٰلِكَ يَوۡمُ الۡخُرُوۡجِ‏﴾

যেদিন সকলে হাশরের কোলাহল ঠিকমত শুনতে পাবে, [৫৩] সেদিনটি হবে কবর থেকে মৃতদের বেরুবার দিন।

৫০:৪৩

﴿ اِنَّا نَحۡنُ نُحۡىٖ وَنُمِيۡتُ وَاِلَيۡنَا الۡمَصِيۡرُۙ‏﴾

আমিই জীবন দান করি, আমিই মৃত্যু ঘটাই। এবং আমার কাছেই সবাইকে ফিরে আসতে হবে সেদিন---

৫০:৪৪

﴿ يَوۡمَ تَشَقَّقُ الۡاَرۡضُ عَنۡهُمۡ سِرَاعًا‌ؕ ذٰلِكَ حَشۡرٌ عَلَيۡنَا يَسِيۡرٌ‏﴾

যেদিন পৃথিবী বিদীর্ণ হবে, এবং লোকেরা তার ভেতর থেকে বেরিয়ে জোর কদমে ছুটতে থাকবে, এরূপ হাশর সংঘটিত করা আমার নিকট খুবই সহজ। [৫৪]

৫০:৪৫

﴿ نَحۡنُ اَعۡلَمُ بِمَا يَقُوۡلُوۡنَ‌ وَمَاۤ اَنۡتَ عَلَيۡهِمۡ بِجَبَّارٍ‌ فَذَكِّرۡ بِالۡقُرۡاٰنِ مَنۡ يَّخَافُ وَعِيۡدِ﴾

হে নবী! ওরা যেসব কথা বলে, তা আমি ভালো করেই জানি, [৫৫] বস্তুত তাদের কাছ থেকে বলপ্রয়োগে আনুগত্য আদায় করা তোমার কাজ নয়। কাজেই তুমি এ কুরআন দ্বারা আমার হুশিয়ারীকে যারা ডরায়, তাদেরকে তুমি উপদেশ দাও। [৫৬]