﴿طٰسٓمٓ﴾
তা-সীন-মীম।
সূরা ২৬ · মাক্কী
Ash-Shu'ara · কবিগণ · ২২৭ আয়াত
নামকরণ ২২৪ আয়াতের (আরবী) থেকে সূরার নামটি গৃহীত হয়েছে। নাযিলের সময়-কাল বিষয়বস্তু ও বর্ণনাভংগী থেকে বুঝা যাচ্ছে এবং হাদীস থেকে এর সমর্থন পাওয়া যাচ্ছে যে, এ সূরাটির নাযিলের সময়-কাল হচ্ছে মক্কার মধ্যবর্তীকালীন যুগ। ইবনে আব্বাসের (রা.) বর্ণনা মতে প্রথমে সূরা তা-হা নাযিল হয়, তারপর ওয়াকি’আহ এবং এরপর সূরা আশ্ শু’আরা। (রূহুল মাআনী, ১৯ খণ্ড, ৬৪ পৃষ্ঠা) আর সূরা তা-হা সম্পর্কে জানা আছে, এটি হযরত উমরের (আ) ইসলাম গ্রহণের পূর্বে নাযিল হয়েছিল। বিষয়বস্তু ও আলোচ্য বিষয় ভাষণের পটভূমি হচ্ছে, মক্কার কাফেররা লাগাতার অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাওয়াত ও তাবলীগের মোকাবিলা করছিল। এজন্য তারা বিভিন্ন রকমের বাহানাবাজীর আশ্রয় নিচ্ছিল। কখনো বলতো, তুমি তো আমাদের কোন চিহ্ন দেখালে না, তাহলে আমরা কেমন করে তোমাকে নবী বলে মেনে নেবো। কখনো তাঁকে কবি ও গণক আখ্যা দিয়ে তাঁর শিক্ষা ও উপদেশাবলীকে কথার মারপ্যাঁচে উড়িয়ে দেবার চেষ্টা করতো। আবার কখনো তাঁর মিশনকে হালকা ও গুরুত্বহীন করে দেবার জন্য বলতো, কয়েকজন মূর্খ ও অর্বাচীন যুবক অথবা সমাজের নিম্ন শ্রেণীর লোক তাঁর অনুসারী হয়েছে, অথচ এ শিক্ষা যদি তেমন প্রেরণাদায়ক ও প্রাণপ্রবাহে পূর্ণ হতো তাহলে জাতির শ্রেষ্ঠ লোকেরা, পণ্ডিত, জ্ঞানী-গুণী ও সরদাররা একে গ্রহণ করে নিতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে বলিষ্ঠ যুক্তি সহকারে তাদের আকীদা-বিশ্বাসের ভ্রান্তি এবং তাওহীদ ও আখেরাতের সত্যতা বুঝাবার চেষ্টা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলেন। কিন্তু তারা হঠকারিতার নিত্য নতুন পথ অবলম্বন করতে কখনোই ক্লান্ত হতো না। এ জিনিসটি রসূলুল্লাহর (সা.) জন্য অসহ্য মর্মযাতনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল এবং এ দুঃখে তিনি চরম মানসিক পীড়ন অনুভব করছিলেন। এহেন অবস্থায় এ সূরাটি নাযিল হয়। বক্তব্যের সূচনা এভাবে হয়ঃ তুমি এদের জন্য ভাবতে ভাবতে নিজের প্রাণ শক্তি ধ্বংস করে দিচ্ছো কেন? এরা কোন নিদর্শন দেখেনি, এটাই এদের ঈমান না আনার কারণ নয়। বরং এর কারণ হচ্ছে, এরা একগুয়ে ও হঠকারী। এরা বুঝালেও বুঝে না। এরা এমন কোন নিদর্শনের প্রত্যাশী, যা জোরপূর্বক এদের মাথা নুইয়ে দেবে। আর এ নিদর্শন যথাসময়ে যখন এসে যাবে তখন তারা নিজেরাই জানতে পারবে, যে কথা তাদেরকে বুঝানো হচ্ছিল তা একেবারেই সঠিক ও সত্য ছিল। এ ভূমিকার পর দশ রুকূ’ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে যে বিষয়বস্তুটি বর্ণিত হয়েছে তা হচ্ছে এই যে, সত্য প্রত্যাশীদের জন্য আল্লাহর সর্বত্র নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে। সেগুলো দেখে তারা সত্যকে চিনতে পারে। কিন্তু হঠকারীরা কখনো বিশ্ব-জগতের নিদর্শনাদি এবং নবীদের মু’জিযাসমূহ তথা কোন জিনিস দেখেও ঈমান আনেনি। যতক্ষণ না আল্লাহর আযাব এসে তাদেরকে পাকড়াও করেছে ততক্ষণ পর্যন্ত তারা নিজেদের গোমরাহীর ওপর অবিচল থেকেছে। এ সম্বন্ধের প্রেক্ষিতে এখানে ইতিহাসের সাতটি জাতির অবস্থা পেশ করা হয়েছে। মক্কার কাফেররা এ সময় যে হঠকারী নীতি অবলম্বন করে চলছিল ইতিহাসের এ সাতটি জাতিও সেকালে সেই একই নীতির আশ্রয় নিয়েছিল। এ ঐতিহাসিক বর্ণনার আওতাধীনে কতিপয় কথা মানস পটে অংকিত করে দেয়া হয়েছে। একঃ নিদর্শন দু’ধরনের। এক ধরনের নিদর্শন আল্লাহর যমীনে চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে। সেগুলো দেখে প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তি নবী যে জিনিসের দিকে আহবান জানাচ্ছেন সেটি সত্য হতে পারে কিনা সে সম্পর্কে অনুসন্ধান ও গবেষণা করতে পারে। দ্বিতীয় ধরনের নিদর্শন ফেরাউন ও তার সম্প্রদায় দেখেছে, নূহের সম্প্রদায় দেখেছে, আদ ও সামূদ দেখেছে, লূতের সম্প্রদায় ও আইকাবাসীরাও দেখেছে। এখন কাফেররা কোন্ ধরনের নিদর্শন দেখতে চায় এটা তাদের নিজেদের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। দুইঃ সকল যুগে কাফেরদের মনোভাব একই রকম ছিল। তাদের যুক্তি ছিল একই প্রকার। তাদের আপত্তি ছিল একই। ঈমান না আনার জন্য তারা একই বাহানাবাজীর আশ্রয় নিয়েছে। শেষ পর্যন্ত তারা একই পরিণতির সম্মুখীন হয়েছে। অন্যদিকে প্রত্যেক যুগে প্রত্যেক নবীর শিক্ষা একই ছিল। তাদের চরিত্র ও জীবননীতি একই রঙে রঞ্জিত ছিল। নিজেদের বিরোধীদের মোকাবিলায় তাঁদের যুক্তি-প্রমাণের ধরণ ছিল একই। আর তাঁদের সবার সাথে আল্লাহর রহমতও ছিল একই ধরনের। এ দু’টি আদর্শের উপস্থিতি ইতিহাসের পাতায় রয়েছে। কাফেররা নিজেরাই দেখতে পারে তাদের নিজেদের কোন ধরনের ছবি পাওয়া যায় এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যক্তিসত্তায় কোন্ ধরনের আদর্শের নিদর্শন পাওয়া যায়। তৃতীয় যে কথাটির বারবার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে সেটি হচ্ছে আল্লাহ একদিকে যেমন অজেয় শক্তি, পরাক্রম ও ক্ষমতার অধিকারী অপরদিকে তেমনি পরম করুণাময়ও। ইতিহাসে একদিকে রয়েছে তাঁর ক্রোধের দৃষ্টান্ত এবং অন্যদিকে রহমতেরও। এখন লোকদের নিজেদেরকেই এ সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, তারা নিজেদের তাঁর রহমতের যোগ্য বানাবে না ক্রোধের। শেষ রুকূ’তে এ আলোচনাটির উপসংহার টানতে গিয়ে বলা হয়েছে, তোমরা যদি নিদর্শনই দেখতে চাও, তাহলে ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিগুলো যেসব ভয়াবহ নিদর্শন দেখেছিল সেগুলো দেখতে চাও কেন? এ কুরআনকে দেখো। এটি তোমাদের নিজেদের ভাষায় রয়েছে। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখো। তাঁর সাথীদেরকে দেখো। এটা কি কোন শয়তান বা জিনের বাণী হতে পারে? এ বাণীর উপস্থাপককে কি তোমাদের গণৎকার বলে মনে হচ্ছে? মুহাম্মাদ ও তাঁর সাথীদেরকে কি তোমরা কবি ও তাদের সহযোগী ও সমমনারা যেমন হয় তেমনি ধরনের দেখেছো? জিদ ও হঠকারিতার কথা আলাদা। কিন্তু নিজেদের অন্তরের অন্তস্থলে উঁকি দিয়ে দেখো সেখানে কি এর সমর্থন পাওয়া যায়? যদি মনে মনে তোমরা নিজেরাই জানো গণকবৃত্তি ও কাব্যচর্চার সাথে তাঁর দূরতম কোন সম্পর্ক নেই, তাহলে এই সাথে একথাও জেনে নাও, তোমরা জুলুম করছো, কাজেই জালেমের পরিণামই তোমাদের ভোগ করতে হবে।
﴿طٰسٓمٓ﴾
তা-সীন-মীম।
﴿ تِلۡكَ اٰيٰتُ الۡكِتٰبِ الۡمُبِيۡنِ﴾
এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত। [১]
﴿ لَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَّفۡسَكَ اَلَّا يَكُوۡنُوۡا مُؤۡمِنِيۡنَ﴾
হে মুহাম্মাদ! এ লোকেরা ঈমান আনছে না বলে তুমি যেন দুঃখে নিজের প্রাণ বিনষ্ট করে দিতে বসেছ। [২]
﴿ اِنۡ نَّشَاۡ نُنَزِّلۡ عَلَيۡهِمۡ مِّنَ السَّمَآءِ اٰيَةً فَظَلَّتۡ اَعۡنَاقُهُمۡ لَهَا خٰضِعِيۡنَ﴾
আমি চাইলে আকাশ থেকে এমন নিদর্শন অবতীর্ণ করতে পারতাম যার ফলে তাদের ঘাড় তার সামনে নত হয়ে যেতো। [৩]
﴿ وَمَا يَاۡتِيۡهِمۡ مِّنۡ ذِكۡرٍ مِّنَ الرَّحۡمٰنِ مُحۡدَثٍ اِلَّا كَانُوۡا عَنۡهُ مُعۡرِضِيۡنَ﴾
তাদের কাছে দয়াময়ের পক্ষ থেকে যে নতুন নসীহতই আসে, তা থেকে তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়।
﴿ فَقَدۡ كَذَّبُوۡا فَسَيَاۡتِيۡهِمۡ اَنۡۢبٰٓؤُا مَا كَانُوۡا بِهٖ يَسۡتَهۡزِءُوۡنَ﴾
এখন যখন তারা মিথ্যা আরোপ করেছে, তখন তারা যে জিনিসের প্রতি বিদ্রূপ করে চলেছে, অচিরেই তার প্রকৃত স্বরূপ (বিভিন্ন পদ্ধতিতে) তারা অবগত হবে। [৪]
﴿ اَوَلَمۡ يَرَوۡا اِلَى الۡاَرۡضِ كَمۡ اَنۡۢبَتۡنَا فِيۡهَا مِنۡ كُلِّ زَوۡجٍ كَرِيۡمٍ﴾
আর তারা কি কখনো পৃথিবীর প্রতি দৃষ্টিপাত করেনি? আমি কত রকমের কত বিপুল পরিমাণ উৎকৃষ্ট উদ্ভিদ তার মধ্যে সৃষ্টি করেছি?
﴿ اِنَّ فِىۡ ذٰلِكَ لَاَيَةًؕ وَّمَا كَانَ اَكۡثَرُهُمۡ مُّؤۡمِنِيۡنَ﴾
নিশ্চয়ই তার মধ্যে একটি নিদর্শন রয়েছে, [৫] কিন্তু তাদের অধিকাংশই মু’মিন নয়।
﴿ وَاِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الۡعَزِيۡزُ الرَّحِيۡمُ﴾
আর যথার্থই তোমার রব পরাক্রান্ত এবং অনুগ্রহশীলও। [৬]
﴿ وَاِذۡ نَادٰى رَبُّكَ مُوۡسٰىۤ اَنِ ائۡتِ الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِيۡنَؕ﴾
তাদেরকে সে সময়ের কথা শুনাও যখন তোমার রব মূসাকে ডেকে বলেছিলেন, [৭] “জালেম সম্প্রদায়ের কাছে যাও-
﴿قَوۡمَ فِرۡعَوۡنَؕ اَلَا يَتَّقُوۡنَ﴾
ফেরাউনের সম্প্রদায়ের কাছে [৮] --- তারা কি ভয় করে না?” [৯]
﴿ قَالَ رَبِّ اِنِّىۡۤ اَخَافُ اَنۡ يُّكَذِّبُوۡنِ﴾
সে বললো, “হে আমার রব! আমার ভয় হয় তারা আমাকে মিথ্যা বলবে,
﴿وَيَضِيۡقُ صَدۡرِىۡ وَلَا يَنۡطَلِقُ لِسَانِىۡ فَاَرۡسِلۡ اِلٰى هٰرُوۡنَ﴾
আমার বক্ষ সংকুচিত হচ্ছে এবং আমার জিহ্বা সঞ্চালিত হচ্ছে না। আপনি হারুনের প্রতি রিসালাত পাঠান। [১০]
﴿ وَلَهُمۡ عَلَىَّ ذَنۡۢبٌ فَاَخَافُ اَنۡ يَّقۡتُلُوۡنِۚ﴾
আর আমার বিরুদ্ধে তো তাদের একটি অভিযোগও আছে। তাই আমার আশঙ্কা হয় তারা আমাকে হত্যা করে ফেলবে।” [১১]
﴿ قَالَ كَلَّاۚ فَاذۡهَبَا بِاٰيٰتِنَآ اِنَّا مَعَكُمۡ مُّسۡتَمِعُوۡنَ﴾
আল্লাহ্ বললেন, “কখখনো না, তোমরা দু’জন যাও আমার নিদর্শনগুলো নিয়ে, [১২] আমি তোমাদের সাথে সবকিছু শুনতে থাকবো।
﴿ فَاۡتِيَا فِرۡعَوۡنَ فَقُوۡلَاۤ اِنَّا رَسُوۡلُ رَبِّ الۡعٰلَمِيۡنَۙ﴾
ফেরাউনের কাছে যাও এবং তাকে বলো, রব্বুল আলামীন আমাদের পাঠিয়েছেন,
﴿ اَنۡ اَرۡسِلۡ مَعَنَا بَنِىۡۤ اِسۡرآءِيۡلَ﴾
যাতে তুমি বনী ইসরাঈলকে আমাদের সাথে পাঠিয়ে দাও সে জন্য।” [১৩]
﴿ قَالَ اَلَمۡ نُرَبِّكَ فِيۡنَا وَلِيۡدًا وَّلَبِثۡتَ فِيۡنَا مِنۡ عُمُرِكَ سِنِيۡنَۙ﴾
ফেরাউন বললো, “আমরা কি তোমাকে আমাদের এখানে প্রতিপালন করিনি যখন ছোট্ট শিশুটি ছিলে? [১৪] বেশ ক’টি বছর আমাদের এখানে কাটিয়েছো,
﴿ وَفَعَلۡتَ فَعۡلَتَكَ الَّتِىۡ فَعَلۡتَ وَاَنۡتَ مِنَ الۡكٰفِرِيۡنَ﴾
এবং তারপর তুমি যে কর্মটি করেছ তাতো করেছোই; [১৫] তুমি বড়ই অকৃতজ্ঞ।”
﴿ قَالَ فَعَلۡتُهَاۤ اِذًا وَّاَنَا۟ مِنَ الضَّآلِّيۡنَؕ﴾
মূসা জবাব দিল, “সে সময় অজ্ঞতার মধ্যে আমি সে কাজ করেছিলাম। [১৬]
﴿ فَفَرَرۡتُ مِنۡكُمۡ لَمَّا خِفۡتُكُمۡ فَوَهَبَ لِىۡ رَبِّىۡ حُكۡمًا وَّجَعَلَنِىۡ مِنَ الۡمُرۡسَلِيۡنَ﴾
তারপর তোমাদের ভয়ে আমি পালিয়ে গেলাম। এরপর আমার রব আমাকে “হুকুম” দান করলেন [১৭] এবং আমাকে রসূলদের অন্তর্ভুক্ত করে নিলেন।
﴿ وَتِلۡكَ نِعۡمَةٌ تَمُنُّهَا عَلَىَّ اَنۡ عَبَّدتَّ بَنِىۡۤ اِسۡرآءِيۡلَؕ﴾
আর তোমার অনুগ্রহের কথা যা তুমি আমার প্রতি দেখিয়েছো, তার আসল কথা হচ্ছে এই যে, তুমি বনী ইসরাঈলকে দাসে পরিণত করেছিলে।” [১৮]
﴿ قَالَ فِرۡعَوۡنُ وَمَا رَبُّ الۡعٰلَمِيۡنَؕ﴾
ফেরাউন বললো, [১৯] “রব্বুল আলামীন আবার কে?” [২০]
﴿ قَالَ رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا بَيۡنَهُمَآؕ اِنۡ كُنۡتُمۡ مُّوۡقِنِيۡنَ﴾
মূসা জবাব দিল, “আকাশসমূহ ও পৃথিবীর রব এবং আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানে যা কিছু আছে তাদেরও রব, যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাস স্থাপনকারী হও।” [২১]
﴿ قَالَ لِمَنۡ حَوۡلَهٗۤ اَلَا تَسۡتَمِعُوۡنَ﴾
ফেরাউন তার আশপাশের লোকদের বললো, “তোমরা শুনছো তো?”
﴿ قَالَ رَبُّكُمۡ وَرَبُّ اٰبَآٮِٕكُمُ الۡاَوَّلِيۡنَ﴾
মূসা বললো, “তোমাদেরও রব এবং তোমাদের বাপ-দাদাদেরও রব যারা অতিক্রান্ত হয়ে গেছে।” [২২]
﴿ قَالَ اِنَّ رَسُوۡلَكُمُ الَّذِىۡۤ اُرۡسِلَ اِلَيۡكُمۡ لَمَجۡنُوۡنٌ﴾
ফেরাউন (উপস্থিত লোকদের) বললো, “তোমাদের কাছে প্রেরিত তোমাদের এ রসূল সাহেবটি তো দেখছি একেবারেই পাগল।”
﴿ قَالَ رَبُّ الۡمَشۡرِقِ وَالۡمَغۡرِبِ وَمَا بَيۡنَهُمَآؕ اِنۡ كُنۡتُمۡ تَعۡقِلُوۡنَ﴾
মূসা বললো, “পূর্ব ও পশ্চিম এবং যা কিছু তার মাঝখানে আছে সবার রব, যদি তোমরা কিছু বুদ্ধি-জ্ঞানের অধিকারী হতে।” [২৩]
﴿ قَالَ لَٮِٕنِ اتَّخَذۡتَ اِلٰهًا غَيۡرِىۡ لَاَجۡعَلَنَّكَ مِنَ الۡمَسۡجُوۡنِيۡنَ﴾
ফেরাউন বললো, “যদি তুমি আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে মাবুদ বলে মেনে নাও, তাহলে কারাগারে যারা পচে মরছে তোমাকেও তাদের দলে ভিড়িয়ে দেবো।” [২৪]
﴿قَالَ اَوَلَوۡ جِئۡتُكَ بِشَىۡءٍ مُّبِيۡنٍۚ﴾
মূসা বললো, “আমি যদি তোমার সামনে একটি সুস্পষ্ট জিনিস আনি তবুও?" [২৫]
﴿ قَالَ فَاۡتِ بِهٖۤ اِنۡ كُنۡتَ مِنَ الصّٰدِقِيۡنَ﴾
ফেরাউন বললো, “বেশ তুমি আনো যদি তুমি সত্যবাদী হও।” [২৬]
﴿ فَاَلۡقٰى عَصَاهُ فَاِذَا هِىَ ثُعۡبَانٌ مُّبِيۡنٌ ۖۚ﴾
(তার মুখ থেকে একথা বের হতেই) মূসা নিজের লাঠিটি ছুঁড়ে মারলো। তৎক্ষনাৎ সেটি হলো একটি সাক্ষাত অজগর। [২৭]
﴿ وَنَزَعَ يَدَهٗ فَاِذَا هِىَ بَيۡضَآءُ لِلنّٰظِرِيۡنَ﴾
তারপর সে নিজের হাত (বগলের ভেতর থেকে) টেনে বের করলো এবং তা সকল প্রত্যক্ষদর্শীর সামনে চকমক্ করছিল। [২৮]
﴿ قَالَ لِلۡمَلَاِ حَوۡلَهٗۤ اِنَّ هٰذَا لَسٰحِرٌ عَلِيۡمٌۙ﴾
ফেরাউন তার চারপাশে উপস্থিত সরদারদেরকে বললো, “এ ব্যক্তি নিশ্চয়ই একজন দক্ষ যাদুকর।
﴿ يُّرِيۡدُ اَنۡ يُّخۡرِجَكُمۡ مِّنۡ اَرۡضِكُمۡ بِسِحۡرِهٖۖ فَمَاذَا تَاۡمُرُوۡنَ﴾
নিজের যাদুর জোরে সে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায়। [২৯] এখন বলো তোমরা কী হুকুম দিচ্ছো?” [৩০]
﴿ قَالُوۡۤا اَرۡجِهۡ وَاَخَاهُ وَابۡعَثۡ فِىۡ الۡمَدَآٮِٕنِ حٰشِرِيۡنَۙ﴾
তারা বললো, “তাঁকে ও তাঁর ভাইকে আটক করো এবং শহরে শহরে হরকরা পাঠাও।
﴿ يَاۡتُوۡكَ بِكُلِّ سَحَّارٍ عَلِيۡمٍ﴾
তারা প্রত্যেক সুদক্ষ যাদুকরকে তোমার কাছে নিয়ে আসুক।”
﴿ فَجُمِعَ السَّحَرَةُ لِمِيۡقَاتِ يَوۡمٍ مَّعۡلُوۡمٍۙ﴾
তাই একদিন নির্দিষ্ট সময়ে [৩১] যাদুকরদেরকে একত্র করা হলো।
﴿ وَقِيۡلَ لِلنَّاسِ هَلۡ اَنۡتُمۡ مُّجۡتَمِعُوۡنَۙ﴾
এবং লোকদেরকে বলা হলো, “তোমরাও কি সমাবেশে যাবে? [৩২]
﴿لَعَلَّنَا نَتَّبِعُ السَّحَرَةَ اِنۡ كَانُوۡا هُمُ الۡغٰلِبِيۡنَ﴾
হয়তো আমরা যাদুকরদের ধর্মের অনুসরণের ওপরই বহাল থাকবো, যদি তারা বিজয়ী হয়।” [৩৩]
﴿ فَلَمَّا جَآءَ السَّحَرَةُ قَالُوۡا لِفِرۡعَوۡنَ اَٮِٕنَّ لَنَا لَاَجۡرًا اِنۡ كُنَّا نَحۡنُ الۡغٰلِبِيۡنَ﴾
যখন যাদুকররা ময়দানে এলো, তারা ফেরাউনকে বললো, “আমরা কি পুরস্কার পাবো, যদি আমরা বিজয়ী হই?” [৩৪]
﴿ قَالَ نَعَمۡ وَاِنَّكُمۡ اِذًا لَّمِنَ الۡمُقَرَّبِيۡنَ﴾
সে বললো, “হ্যাঁ,, আর তোমরা তো সে সময় নিকটবর্তীদের মধ্যে শামিল হয়ে যাবে।” [৩৫]
﴿ قَالَ لَهُمۡ مُّوۡسٰىۤ اَلۡقُوۡا مَاۤ اَنۡتُمۡ مُّلۡقُوۡنَ﴾
মূসা বললো, “তোমাদের যা নিক্ষেপ করার আছে নিক্ষেপ কর।”
﴿فَاَلۡقَوۡا حِبَالَهُمۡ وَعِصِيَّهُمۡ وَقَالُوۡا بِعِزَّةِ فِرۡعَوۡنَ اِنَّا لَنَحۡنُ الۡغٰلِبُوۡنَ﴾
তারা তখনই নিজেদের দড়িদড়া ও লাঠিসোঁটা নিক্ষেপ করলো এবং বললো, “ফেরাউনের ইজ্জতের কসম, আমরাই বিজয়ী হবো।” [৩৬]
﴿ فَاَلۡقَىٰ مُوۡسٰى عَصَاهُ فَاِذَا هِىَ تَلۡقَفُ مَا يَاۡفِكُوۡنَۖۚ﴾
তারপর মূসা নিজের লাঠিটি নিক্ষেপ করলো। অকস্মাত সে তাদের কৃত্রিম কীর্তিগুলো গ্রাস করতে থাকলো।
﴿ فَاُلۡقِىَ السَّحَرَةُ سٰجِدِيۡنَۙ﴾
তখন সকল যাদুকর স্বতঃস্ফূর্তভাবে সিজদাবনত হয়ে পড়লো
﴿ قَالُوۡۤا اٰمَنَّا بِرَبِّ الۡعٰلَمِيۡنَۙ﴾
এবং বলে উঠলো, “মেনে নিলাম আমরা রব্বুল আলামীনকে---
﴿ رَبِّ مُوۡسٰى وَهٰرُوۡنَ﴾
-মূসা ও হারুনের রবকে।” [৩৭]
﴿ قَالَ اٰمَنۡتُمۡ لَهٗ قَبۡلَ اَنۡ اٰذَنَ لَكُمۡۚ اِنَّهٗ لَكَبِيۡرُكُمُ الَّذِىۡ عَلَّمَكُمُ السِّحۡرَۚ فَلَسَوۡفَ تَعۡلَمُوۡنَ ؕ لَاُقَطِّعَنَّ اَيۡدِيَكُمۡ وَاَرۡجُلَكُمۡ مِّنۡ خِلٰفٍ وَّلَاُصَلِّبَنَّكُمۡ اَجۡمَعِيۡنَۚ﴾
ফেরাউন বললো, “তোমরা মূসার কথা মেনে নিলে আমি তোমাদের অনুমতি দেবার আগেই! নিশ্চয়ই এ তোমাদের প্রধান, যে তোমাদের যাদু শিখিয়েছে। [৩৮] বেশ, এখনই তোমরা জানবে। আমি তোমাদের হাত-পা বিপরীত দিক থেকে কর্তন করাবো এবং তোমাদের সবাইকে শূলবিদ্ধ করবো।” [৩৯]
﴿قَالُوۡا لَا ضَيۡرَ اِنَّاۤ اِلٰى رَبِّنَا مُنۡقَلِبُوۡنَ﴾
তারা বলল, “কোন পরোয়া নেই, আমরা নিজেদের রবের কাছে পৌঁছে যাবো।
﴿ اِنَّا نَطۡمَعُ اَنۡ يَّغۡفِرَ لَنَا رَبُّنَا خَطٰيٰنَاۤ اَنۡ كُنَّاۤ اَوَّلَ الۡمُؤۡمِنِيۡنَؕ﴾
আর আমরা আশা করি আমাদের রব আমাদের গোনাহ্ মাফ করে দেবেন, কেননা, সবার আগে আমরা ঈমান এনেছি।” [৪০]
﴿ وَاَوۡحَيۡنَاۤ اِلٰى مُوۡسٰٓى اَنۡ اَسۡرِ بِعِبَادِىۡۤ اِنَّكُمۡ مُّتَّبَعُوۡنَ﴾
আমি [৪১] মূসার কাছে ওহী পাঠিয়েছি এই মর্মেঃ “রাতারাতি আমার বান্দাদের নিয়ে বের হয়ে যাও, তোমাদের পিছু নেয়া হবে।” [৪২]
﴿ فَاَرۡسَلَ فِرۡعَوۡنُ فِىۡ الۡمَدَآٮِٕنِ حٰشِرِيۡنَۚ﴾
এর ফলে ফেরাউন (সৈন্য একত্র করার জন্য) নগরে নগরে নকীব পাঠালো (এবং বলে পাঠালোঃ)
﴿ اِنَّ هٰٓؤُلَآءِ لَشِرۡذِمَةٌ قَلِيۡلُوۡنَۙ﴾
এরা মুষ্টিমেয় কয়েকজন লোক,
﴿ وَاِنَّهُمۡ لَنَا لَغَآٮِٕظُوۡنَۙ﴾
এরা আমাদের নারাজ করেছে
﴿وَاِنَّا لَجَمِيۡعٌ حٰذِرُوۡنَؕ﴾
এবং আমরা একটি দল, সদা-সতর্ক থাকাই আমাদের রীতি।” [৪৩]
﴿فَاَخۡرَجۡنٰهُمۡ مِّنۡ جَنّٰتٍ وَّعُيُوۡنٍۙ﴾
এভাবে আমি তাদেরকে বের করে এনেছি তাদের বাগ-বাগীচা, নদী-নির্ঝরিনী,
﴿ وَكُنُوۡزٍ وَّمَقَامٍ كَرِيۡمٍۙ﴾
ধন-ভাণ্ডার ও সুরম্য আবাসগৃহসমূহ থেকে। [৪৪]
﴿ كَذٰلِكَؕ وَاَوۡرَثۡنٰهَا بَنِىۡۤ اِسۡرآءِيۡلَ﴾
এসব ঘটেছে তাদের সাথে আর (অন্যদিকে) আমি বনী ইসরাঈলকে ঐ সব জিনিসের উত্তরাধিকারী বানিয়ে দিয়েছি। [৪৫]
﴿ فَاَتۡبَعُوۡهُمۡ مُّشۡرِقِيۡنَ﴾
সকাল হতেই তারা এদের পিছু নিয়ে বের হয়ে পড়লো।
﴿ فَلَمَّا تَرَآءَ الۡجَمۡعَانِ قَالَ اَصۡحٰبُ مُوۡسٰٓى اِنَّا لَمُدۡرَكُوۡنَ﴾
দু’দল যখন পরস্পরকে দেখতে পেলো তখন মূসার সাথীরা চিৎকার করে উঠলো, “আমরা তো পাকড়াও হয়ে গেলাম।”
﴿ قَالَ كَلَّآ ۚ اِنَّ مَعِىَ رَبِّىۡ سَيَهۡدِيۡنِ﴾
মূসা বললো, “কখখনো না, আমার সাথে আছেন আমার রব, তিনি নিশ্চয়ই আমাকে পথ দেখাবেন।” [৪৬]
﴿ فَاَوۡحَيۡنَاۤ اِلٰى مُوۡسٰٓى اَنِ اضۡرِب بِّعَصَاكَ الۡبَحۡرَؕ فَانفَلَقَ فَكَانَ كُلُّ فِرۡقٍ كَالطَّوۡدِ الۡعَظِيۡمِۚ﴾
আমি মূসাকে ওহীর মাধ্যমে হুকুম দিলাম, “মারো তোমার লাঠি সাগরের বুকে।” সহসাই সাগর দীর্ণ হয়ে গেলো এবং তার প্রত্যেকটি টুকরা হয়ে গেলো এক একটি বিশাল পাহাড়ের মতো। [৪৭]
﴿ وَاَزۡلَفۡنَا ثَمَّ الۡاٰخَرِيۡنَۚ﴾
এ জায়গায়ই আমি দ্বিতীয় দলটিকেও নিকটে আনলাম। [৪৮]
﴿وَاَنۡجَيۡنَا مُوۡسٰى وَمَنۡ مَّعَهٗۤ اَجۡمَعِيۡنَۚ﴾
মূসা ও তাঁর সমস্ত লোককে যারা তার সঙ্গে ছিল আমি উদ্ধার করলাম
﴿ ثُمَّ اَغۡرَقۡنَا الۡاٰخَرِيۡنَؕ﴾
এবং অন্যদেরকে ডুবিয়ে দিলাম।
﴿اِنَّ فِىۡ ذٰلِكَ لَاَيَةًؕ وَّمَا كَانَ اَكۡثَرُهُمۡ مُّؤۡمِنِيۡنَ﴾
এ ঘটনার মধ্যে আছে একটি নিদর্শন। [৪৯] কিন্তু এদের অধিকাংশ মান্যকারী নয়।
﴿ وَاِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الۡعَزِيۡزُ الرَّحِيۡمُ﴾
আর প্রকৃতপক্ষে তোমার রব পরাক্রমশালীও আবার দয়াময়ও।
﴿ وَاتۡلُ عَلَيۡهِمۡ نَبَاَ اِبۡرٰهِيۡمَ﴾
আর তাদেরকে ইবরাহীমের কাহিনী শুনিয়ে দাও, [৫০]
﴿ اِذۡ قَالَ لِاَبِيۡهِ وَقَوۡمِهٖ مَا تَعۡبُدُوۡنَ﴾
যখন সে তার বাপ ও তার সম্প্রদায়কে জিজ্ঞেস করেছিল, “তোমরা কিসের পূজা করো?” [৫১]
﴿قَالُوۡا نَعۡبُدُ اَصۡنَامًا فَنَظَلُّ لَهَا عٰكِفِيۡنَ﴾
তারা বললো, “আমরা কতিপয় মূর্তির পূজা করি এবং তাদের সেবায় আমরা নিমগ্ন থাকি।” [৫২]
﴿ قَالَ هَلۡ يَسۡمَعُوۡنَكُمۡ اِذۡ تَدۡعُوۡنَۙ﴾
সে জিজ্ঞেস করলো, “তোমরা যখন তাদেরকে ডাকো তখন কি তারা তোমাদের কথা শোনে?
﴿ اَوۡ يَنۡفَعُوۡنَكُمۡ اَوۡ يَضُرُّوۡنَ﴾
অথবা তোমাদের কি কিছু উপকার বা ক্ষতি করে?”
﴿ قَالُوۡا بَلۡ وَجَدۡنَاۤ اٰبَآءَنَا كَذٰلِكَ يَفۡعَلُوۡنَ﴾
তারা জবাব দিল, “না, বরং আমরা নিজেদের বাপ-দাদাকে এমনটিই করতে দেখেছি।” [৫৩]
﴿قَالَ اَفَرَءَيۡتُمۡ مَّا كُنۡتُمۡ تَعۡبُدُوۡنَۙ﴾
এ কথায় ইবরাহীম বললো, “কখনো কি তোমরা (চোখ মেলে)
﴿ اَنۡتُمۡ وَاٰبَآؤُكُمُ الۡاَقۡدَمُوۡنَۖ﴾
সেই জিনিসগুলো দেখেছো যাদের বন্দেগী তোমরা এবং তোমাদের অতীত পূর্বপুরুষেরা করতে অভ্যস্ত? [৫৪]
﴿ فَاِنَّهُمۡ عَدُوٌّ لِّىۡۤ اِلَّا رَبَّ الۡعٰلَمِيۡنَۙ﴾
এরা তো সবাই আমার দুশমন [৫৫] একমাত্র রব্বুল আলামীন ছাড়া, [৫৬]
﴿الَّذِىۡ خَلَقَنِىۡ فَهُوَ يَهۡدِيۡنِۙ﴾
যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, [৫৭] তারপর তিনিই আমাকে পথ দেখিয়েছেন।
﴿وَالَّذِىۡ هُوَ يُطۡعِمُنِىۡ وَيَسۡقِيۡنِۙ﴾
তিনি আমাকে খাওয়ান ও পান করান
﴿ وَاِذَا مَرِضۡتُ فَهُوَ يَشۡفِيۡنِۙ﴾
এবং রোগাক্রান্ত হলে তিনিই আমাকে রোগমুক্ত করেন। [৫৮]
﴿ وَالَّذِىۡ يُمِيۡتُنِىۡ ثُمَّ يُحۡيِيۡنِۙ﴾
তিনি আমাকে মৃত্যু দান করবেন এবং পুনর্বার আমাকে জীবন দান করবেন।
﴿ وَالَّذِىۡۤ اَطۡمَعُ اَنۡ يَّغۡفِرَ لِىۡ خَطِٓیْئـَٔتِىۡ يَوۡمَ الدِّيۡنِؕ﴾
তাঁর কাছে আমি আশা করি, প্রতিদান দিবসে তিনি আমার অপরাধ ক্ষমা করবেন।” [৫৯]
﴿ رَبِّ هَبۡ لِىۡ حُكۡمًا وَّاَلۡحِقۡنِىۡ بِالصّٰلِحِيۡنَۙ﴾
(এরপর ইবরাহীম দোয়া করলোঃ) “হে আমার রব! আমাকে প্রজ্ঞা দান করো [৬০] এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের সাথে শামিল করো। [৬১]
﴿ وَاجۡعَل لِّىۡ لِسَانَ صِدۡقٍ فِىۡ الۡاٰخِرِيۡنَۙ﴾
আর পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে আমার সত্যিকার খ্যাতি ছড়িয়ে দিও [৬২]
﴿وَاجۡعَلۡنِىۡ مِنۡ وَّرَثَةِ جَنَّةِ النَّعِيۡمِۙ﴾
এবং আমাকে নিয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাতের অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত করো।
﴿ وَاغۡفِرۡ لِاَبِىۡۤ اِنَّهٗ كَانَ مِنَ الضَّآلِّيۡنَۙ﴾
আর আমার বাপকে মাফ করে দিও, নিঃসন্দেহে তিনি পথভ্রষ্টদের দলভুক্ত [৬৩] ছিলেন
﴿وَلَا تُخۡزِنِىۡ يَوۡمَ يُبۡعَثُوۡنَۙ﴾
এবং সেদিন আমাকে লাঞ্ছিত করো না যেদিন সবাইকে জীবিত করে উঠানো হবে, [৬৪]
﴿ يَوۡمَ لَا يَنۡفَعُ مَالٌ وَّلَا بَنُوۡنَۙ﴾
যেদিন অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোন কাজে লাগবে না,
﴿ اِلَّا مَنۡ اَتَى اللّٰهَ بِقَلۡبٍ سَلِيۡمٍؕ﴾
তবে যে বিশুদ্ধ অন্তঃকরণ নিয়ে আল্লাহর সামনে হাজির হবে।” [৬৫]
﴿ وَاُزۡلِفَتِ الۡجَنَّةُ لِلۡمُتَّقِيۡنَۙ﴾
--(সেদিন) [৬৬] জান্নাত মুত্তাকীদের কাছাকাছি নিয়ে আসা হবে
﴿ وَبُرِّزَتِ الۡجَحِيۡمُ لِلۡغَاوِيۡنَۙ﴾
এবং জাহান্নাম পথভ্রষ্টদের সামনে খুলে দেয়া হবে। [৬৭]
﴿وَقِيۡلَ لَهُمۡ اَيۡنَ مَا كُنۡتُمۡ تَعۡبُدُوۡنَۙ﴾
আর তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে, “আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমরা যাদের ইবাদাত করতে তারা এখন কোথায়?
﴿مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِؕ هَلۡ يَنۡصُرُوۡنَكُمۡ اَوۡ يَنۡتَصِرُوۡنَؕ﴾
তারা কি এখন তোমাদের কিছু সাহায্য করছে অথবা আত্মরক্ষা করতে পারে?”
﴿ فَكُبۡكِبُوۡا فِيۡهَا هُمۡ وَالۡغَاوٗنَۙ﴾
তারপর সেই উপাস্যদেরকে এবং
﴿ وَجُنُوۡدُ اِبۡلِيۡسَ اَجۡمَعُوۡنَ﴾
এই পথভ্রষ্টদেরকে আর ইবলীসের বাহিনীর সবাইকে তার মধ্যে নিক্ষেপ করা হবে। [৬৮]
﴿ قَالُوۡا وَهُمۡ فِيۡهَا يَخۡتَصِمُوۡنَۙ﴾
সেখানে এরা সবাই পরস্পর ঝগড়া করবে এবং পথভ্রষ্টরা (নিজেদের উপাস্যদেরকে) বলবে,
﴿ تَاللّٰهِ اِنۡ كُنَّا لَفِىۡ ضَلٰلٍ مُّبِيۡنٍۙ﴾
“আল্লাহর কসম আমরা তো স্পষ্ট ভ্রষ্টতার মধ্যে ছিলাম,
﴿ اِذۡ نُسَوِّيۡكُمۡ بِرَبِّ الۡعٰلَمِيۡنَ﴾
যখন তোমাদের দিচ্ছিলাম রব্বুল আলামীনের সমকক্ষের মর্যাদা।
﴿ وَمَاۤ اَضَلَّنَاۤ اِلَّا الۡمُجۡرِمُوۡنَ﴾
আর এ অপরাধীরাই আমাদেরকে ভ্রষ্টতায় লিপ্ত করেছে। [৬৯]
﴿ فَمَا لَنَا مِنۡ شَافِعِيۡنَۙ﴾
এখন আমাদের কোন সুপারিশকারী নেই [৭০]
﴿ وَلَا صَدِيۡقٍ حَمِيۡمٍ﴾
এবং কোন অন্তরঙ্গ বন্ধুও নেই। [৭১]
﴿فَلَوۡ اَنَّ لَنَا كَرَّةً فَنَكُوۡنَ مِنَ الۡمُؤۡمِنِيۡنَ﴾
হায় যদি আমাদের আবার একবার ফিরে যাওয়ার সুযোগ মিলতো, তাহলে আমরা মু’মিন হয়ে যেতাম।” [৭২]
﴿ اِنَّ فِىۡ ذٰلِكَ لَاَيَةًؕ وَّمَا كَانَ اَكۡثَرُهُمۡ مُّؤۡمِنِيۡنَ﴾
নিঃসন্দেহে এর মধ্যে একটি বড় নিদর্শন রয়েছে, [৭৩] কিন্তু এদের অধিকাংশ মুমিন নয়।
﴿ وَاِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الۡعَزِيۡزُ الرَّحِيۡمُ﴾
আর প্রকৃতপক্ষে তোমার রব পরাক্রমশালীও এবং করুণাময়ও।
﴿ كَذَّبَتۡ قَوۡمُ نُوۡحِۨ الۡمُرۡسَلِيۡنَ ۖۚ﴾
নূহের [৭৪] সম্প্রদায় রসূলদেরকে মিথ্যুক বললো। [৭৫]
﴿اِذۡ قَالَ لَهُمۡ اَخُوۡهُمۡ نُوۡحٌ اَلَا تَتَّقُوۡنَۚ﴾
স্মরণ কর যখন তাদের ভাই নূহ তাদেরকে বলেছিল, “তোমরা কি ভয় কর না? [৭৬]
﴿ اِنِّىۡ لَكُمۡ رَسُوۡلٌ اَمِيۡنٌۙ﴾
আমি তোমাদের জন্য একজন আমানতদার রসূল। [৭৭]
﴿ فَاتَّقُوۡا اللّٰهَ وَاَطِيۡعُوۡنِ﴾
কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো। [৭৮]
﴿ وَمَاۤ اَسۡـَٔلُكُمۡ عَلَيۡهِ مِنۡ اَجۡرٍۚ اِنۡ اَجۡرِىَ اِلَّا عَلٰى رَبِّ الۡعٰلَمِيۡنَ﴾
এ কাজে আমি তোমাদের কাছে কোন প্রতিদানের প্রত্যাশী নই। আমাকে প্রতিদান দেবার দায়িত্ব তো রব্বুল আলামীনের। [৭৯]
﴿ فَاتَّقُوۡا اللّٰهَ وَاَطِيۡعُوۡنِؕ﴾
কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং (নির্দ্বিধায়) আমার আনুগত্য করো।” [৮০]
﴿ قَالُوۡۤا اَنُؤۡمِنُ لَكَ وَاتَّبَعَكَ الۡاَرۡذَلُوۡنَؕ﴾
তারা জবাব দিল, “আমরা কি তোমাকে মেনে নেবো, অথচ নিকৃষ্টতম লোকেরা তোমার অনুসরণ করছে?” [৮১]
﴿ قَالَ وَمَا عِلۡمِىۡ بِمَا كَانُوۡا يَعۡمَلُوۡنَ﴾
নূহ বললো, “তাদের কাজ কেমন, আমি কেমন করে জানবো।
﴿ اِنۡ حِسَابُهُمۡ اِلَّا عَلٰى رَبِّىۡ لَوۡ تَشۡعُرُوۡنَۚ﴾
তাদের হিসেব গ্রহণ করা তো আমার প্রতিপালকের কাজ।
﴿ وَمَاۤ اَنَا بِطَارِدِ الۡمُؤۡمِنِيۡنَ﴾
হায়! যদি তোমরা একটু সচেতন হতে। [৮২] যে ঈমান আনে তাকে তাড়িয়ে দেয়া আমার কাজ নয়।
﴿ اِنۡ اَنَا اِلَّا نَذِيۡرٌ مُّبِيۡنٌ﴾
আমি তো মূলত একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী। [৮৩]
﴿ قَالُوۡا لَٮِٕنۡ لَّمۡ تَنۡتَهِ يٰنُوۡحُ لَتَكُوۡنَنَّ مِنَ الۡمَرۡجُوۡمِيۡنَؕ﴾
তারা বললো, “হে নূহ! যদি তুমি বিরত না হও, তাহলে তুমি অবশ্যই বিপর্যস্ত লোকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।” [৮৪]
﴿ قَالَ رَبِّ اِنَّ قَوۡمِىۡ كَذَّبُوۡنِ﴾
নূহ দোয়া করলো, “হে আমার রব! আমার জাতি আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছে। [৮৫]
﴿ فَافۡتَحۡ بَيۡنِىۡ وَبَيۡنَهُمۡ فَتۡحًا وَّنَجِّنِىۡ وَمَنۡ مَّعِىَ مِنَ الۡمُؤۡمِنِيۡنَ﴾
এখন আমার ও তাদের মধ্যে সুস্পষ্ট ফায়সালা করে দাও এবং আমার সাথে যেসব মু’মিন আছে তাদেরকে রক্ষা করো।” [৮৬]
﴿ فَاَنۡجَيۡنٰهُ وَمَنۡ مَّعَهٗ فِىۡ الۡفُلۡكِ الۡمَشۡحُوۡنِۚ﴾
শেষ পর্যন্ত আমি একটি বোঝাই করা নৌযানে তাঁকে ও তাঁর সাথীদেরকে বাঁচিয়ে নিলাম, [৮৭]
﴿ ثُمَّ اَغۡرَقۡنَا بَعۡدُ الۡبٰقِيۡنَؕ﴾
তারপর অবশিষ্ট লোকদেরকে ডুবিয়ে দিলাম।
﴿ اِنَّ فِىۡ ذٰلِكَ لَاَيَةًؕ وَّمَا كَانَ اَكۡثَرُهُمۡ مُّؤۡمِنِيۡنَ﴾
নিশ্চিতভাবে এর মধ্যে রয়েছে একটি নিদর্শন। কিন্তু তাদের অধিকাংশ তা মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।
﴿ وَاِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الۡعَزِيۡزُ الرَّحِيۡمُ﴾
আর আসল ব্যাপার হচ্ছে, তোমার রব পরাক্রমশালী এবং করুণাময়ও।
﴿ كَذَّبَتۡ عَادُ الۡمُرۡسَلِيۡنَۖۚ﴾
আদ জাতি রাসূলদের প্রতি মিথ্যারোপ করলো। [৮৮]
﴿ اِذۡ قَالَ لَهُمۡ اَخُوۡهُمۡ هُوۡدٌ اَلَا تَتَّقُوۡنَۚ﴾
স্মরণ করো যখন তাদের ভাই হুদ তাদেরকে বলেছিলো, [৮৯] “তোমরা ভয় করছো না?
﴿ اِنِّىۡ لَكُمۡ رَسُوۡلٌ اَمِيۡنٌۙ﴾
আমি তোমাদের জন্য একজন আমানতদার রসূল।
﴿ فَاتَّقُوۡا اللّٰهَ وَاَطِيۡعُوۡنِۚ﴾
কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
﴿ وَمَاۤ اَسۡـَٔلُكُمۡ عَلَيۡهِ مِنۡ اَجۡرٍ اِنۡ اَجۡرِىَ اِلَّا عَلٰى رَبِّ الۡعٰلَمِيۡنَؕ﴾
আমি এ কাজে তোমাদের কাছ থেকে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান দেবার দায়িত্ব তো রব্বুল আলামীনের।
﴿ اَتَبۡنُوۡنَ بِكُلِّ رِيۡعٍ اٰيَةً تَعۡبَثُوۡنَۙ﴾
তোমাদের এ কী অবস্থা, প্রত্যেক উঁচু জায়গায় অনর্থক একটি ইমারত বানিয়ে ফেলছো [৯০]
﴿ وَتَتَّخِذُوۡنَ مَصَانِعَ لَعَلَّكُمۡ تَخۡلُدُوۡنَۚ﴾
এবং বড় বড় প্রাসাদ নির্মাণ করছো, যেন তোমরা চিরকাল থাকবে? [৯১]
﴿ وَاِذَا بَطَشۡتُمۡ بَطَشۡتُمۡ جَبَّارِيۡنَۚ﴾
আর যখন কারো ওপর হাত ওঠাও প্রবল একনায়ক হয়ে হাত ওঠাও। [৯২]
﴿ فَاتَّقُوۡا اللّٰهَ وَاَطِيۡعُوۡنِۚ﴾
কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
﴿ وَاتَّقُوۡا الَّذِىۡۤ اَمَدَّكُمۡ بِمَا تَعۡلَمُوۡنَۚ﴾
তাঁকে ভয় করো যিনি এমন কিছু তোমাদের দিয়েছেন যা তোমরা জানো।
﴿ اَمَدَّكُمۡ بِاَنۡعَامٍ وَّبَنِيۡنَ ۚۙ﴾
তোমাদের দিয়েছেন পশু,
﴿ وَجَنّٰتٍ وَّعُيُوۡنٍۚ﴾
সন্তান-সন্ততি, উদ্যান ও পানির প্রস্রবনসমূহ।
﴿اِنِّىۡۤ اَخَافُ عَلَيۡكُمۡ عَذَابَ يَوۡمٍ عَظِيۡمٍؕ﴾
আমি ভয় করছি তোমাদের ওপর একটি বড় দিনের আযাবের।”
﴿ قَالُوۡا سَوَآءٌ عَلَيۡنَاۤ اَوَعَظۡتَ اَمۡ لَمۡ تَكُنۡ مِّنَ الۡوٰعِظِيۡنَۙ﴾
তারা জবাব দিল, “তুমি উপদেশ দাও বা না দাও, আমাদের জন্য এ সবই সমান।
﴿ اِنۡ هٰذَاۤ اِلَّا خُلُقُ الۡاَوَّلِيۡنَۙ﴾
এ ব্যাপারগুলো তো এমনিই ঘটে চলে আসছে [৯৩]
﴿ وَمَا نَحۡنُ بِمُعَذَّبِيۡنَۚ﴾
এবং আমরা আযাবের শিকার হবো না।”
﴿ فَكَذَّبُوۡهُ فَاَهۡلَكۡنٰهُمۡؕ اِنَّ فِىۡ ذٰلِكَ لَاَيَةًؕ وَّمَا كَانَ اَكۡثَرُهُمۡ مُّؤۡمِنِيۡنَ﴾
শেষ পর্যন্ত তারা তাঁকে প্রত্যাখ্যান করলো এবং আমি তাদেরকে ধ্বংস করে দিলাম। [৯৪] নিশ্চিতভাবেই এর মধ্যে আছে একটি নিদর্শন। কিন্তু তাদের অধিকাংশই মেনে নেয়নি।
﴿ وَاِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الۡعَزِيۡزُ الرَّحِيۡمُ﴾
আর প্রকৃতপক্ষে তোমার রব যেমন পরাক্রমশালী তেমন করুণাময়ও।
﴿ كَذَّبَتۡ ثَمُوۡدُ الۡمُرۡسَلِيۡنَ ۖۚ﴾
সামূদ জাতি রসূলদের প্রতি মিথ্যারোপ করলো। [৯৫]
﴿ اِذۡ قَالَ لَهُمۡ اَخُوۡهُمۡ صٰلِحٌ اَلَا تَتَّقُوۡنَۚ﴾
স্মরণ করো যখন তাদের ভাই সালেহ তাদেরকে বললোঃ “তোমরা কি ভয় করো না?
﴿ اِنِّىۡ لَكُمۡ رَسُوۡلٌ اَمِيۡنٌۙ﴾
আমি তোমাদের জন্য একজন আমানতদার রসূল। [৯৬]
﴿ فَاتَّقُوۡا اللّٰهَ وَاَطِيۡعُوۡنِۚ﴾
কাজেই তোমার আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
﴿وَمَاۤ اَسۡـَٔلُكُمۡ عَلَيۡهِ مِنۡ اَجۡرٍۚ اِنۡ اَجۡرِىَ اِلَّا عَلٰى رَبِّ الۡعٰلَمِيۡنَؕ﴾
এ কাজের জন্য আমি তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান প্রত্যাশী নই। আমার প্রতিদান দেবার দায়িত্ব তো রব্বুল আলামীনের।
﴿ اَتُتۡرَكُوۡنَ فِىۡ مَا هٰهُنَاۤ اٰمِنِيۡنَۙ﴾
এখানে যেসব জিনিস আছে সেগুলোর মাঝখানে কি তোমাদের এমনিই নিশ্চিন্তে থাকতে দেয়া হবে? [৯৭]
﴿ فِىۡ جَنّٰتٍ وَّعُيُوۡنٍۙ﴾
এসব উদ্যান ও প্রস্রবনের মধ্যে?
﴿ وَّزُرُوۡعٍ وَّنَخۡلٍ طَلۡعُهَا هَضِيۡمٌۚ﴾
এসব শস্যক্ষেত ও রসালো গুচ্ছ বিশিষ্ট খেজুর বাগানের মধ্যে? [৯৮]
﴿ وَتَنۡحِتُوۡنَ مِنَ الۡجِبَالِ بُيُوۡتًا فٰرِهِيۡنَۚ﴾
তোমরা পাহাড় কেটে তার মধ্যে সগর্বে ইমারত নির্মাণ করছো। [৯৯]
﴿ فَاتَّقُوۡا اللّٰهَ وَاَطِيۡعُوۡنِۚ﴾
আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
﴿ وَلَا تُطِيۡعُوۡۤا اَمۡرَ الۡمُسۡرِفِيۡنَۙ﴾
যেসব লাগামহীন লোক পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে
﴿ الَّذِيۡنَ يُفۡسِدُوۡنَ فِىۡ الۡاَرۡضِ وَلَا يُصۡلِحُوۡنَ﴾
এবং কোন সংস্কার সাধন করে না তাদের আনুগত্য করো না।” [১০০]
﴿قَالُوۡۤا اِنَّمَاۤ اَنۡتَ مِنَ الۡمُسَحَّرِيۡنَۚ﴾
তারা জবাব দিল, “তুমি নিছক একজন যাদুগ্রস্ত ব্যক্তি। [১০১]
﴿ مَاۤ اَنۡتَ اِلَّا بَشَرٌ مِّثۡلُنَا ۖۚ فَاۡتِ بِاٰيَةٍ اِنۡ كُنۡتَ مِنَ الصّٰدِقِيۡنَ﴾
তুমি আমাদের মতো একজন মানুষ ছাড়া আর কি? কোন নিদর্শন আনো, যদি তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকো।” [১০২]
﴿ قَالَ هٰذِهٖ نَاقَةٌ لَّهَا شِرۡبٌ وَّلَكُمۡ شِرۡبُ يَوۡمٍ مَّعۡلُوۡمٍۚ﴾
সালেহ বললো, “এ উটনীটি রইলো। [১০৩] এর পানি পান করার জন্য একটি দিন নির্দিষ্ট এবং তোমাদের সবার পানি পান করার জন্য একটি দিন নির্দিষ্ট রইলো। [১০৪]
﴿وَلَا تَمَسُّوۡهَا بِسُوۡٓءٍ فَيَاۡخُذَكُمۡ عَذَابُ يَوۡمٍ عَظِيۡمٍ﴾
একে কখনো পীড়ন করো না, অন্যথায় একটি মহাদিবসের আযাব তোমাদের উপর আপতিত হবে।”
﴿ فَعَقَرُوۡهَا فَاَصۡبَحُوۡا نٰدِمِيۡنَۙ﴾
তারা তার পায়ের গিঁঠের রগ কেটে দিল [১০৫] এবং শেষে অনুতপ্ত হতে থাকলো।
﴿ فَاَخَذَهُمُ الۡعَذَابُؕ اِنَّ فِىۡ ذٰلِكَ لَاَيَةًؕ وَّمَا كَانَ اَكۡثَرُهُمۡ مُّؤۡمِنِيۡنَ﴾
আযাব তাদেরকে গ্রাস করলো। [১০৬] নিশ্চিতভাবেই এর মধ্যে রয়েছে একটি নিদর্শন। কিন্তু তাদের অধিকাংশই মান্যকারী নয়।
﴿ وَاِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الۡعَزِيۡزُ الرَّحِيۡمُ﴾
আর প্রকৃতপক্ষে তোমার রব হচ্ছেন পরাক্রমশালী এবং দয়াময়ও।
﴿ كَذَّبَتۡ قَوۡمُ لُوۡطٍۨ الۡمُرۡسَلِيۡنَ ۖۚ﴾
লূতের জাতি রসূলদের প্রতি মিথ্যারোপ করলো। [১০৭]
﴿اِذۡ قَالَ لَهُمۡ اَخُوۡهُمۡ لُوۡطٌ اَلَا تَتَّقُوۡنَۚ﴾
স্মরন করো যখন তাদের ভাই লূত তাদেরকে বলেছিল, তোমরা কি ভয় করো না?
﴿ اِنِّىۡ لَكُمۡ رَسُوۡلٌ اَمِيۡنٌۙ﴾
আমি তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রসূল।
﴿ فَاتَّقُوۡا اللّٰهَ وَاَطِيۡعُوۡنِۚ﴾
কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
﴿ وَمَاۤ اَسۡـَٔلُكُمۡ عَلَيۡهِ مِنۡ اَجۡرٍۚ اِنۡ اَجۡرِىَ اِلَّا عَلٰى رَبِّ الۡعٰلَمِيۡنَؕ﴾
এ কাজের জন্য আমি তোমাদের কাছে কোন প্রতিদানের প্রত্যাশী নই। আমার প্রতিদান দেবার দায়িত্ব তো রব্বুল আলামীনের।
﴿ اَتَاۡتُوۡنَ الذُّكۡرَانَ مِنَ الۡعٰلَمِيۡنَۙ﴾
তোমরা কি গোটা দুনিয়ার মধ্যে পুরুষদের কাছে যাও [১০৮]
﴿ وَتَذَرُوۡنَ مَا خَلَقَ لَكُمۡ رَبُّكُمۡ مِّنۡ اَزۡوَاجِكُمۡؕ بَلۡ اَنۡتُمۡ قَوۡمٌ عٰدُوۡنَ﴾
এবং তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে তোমাদের রব তোমাদের জন্য যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তা পরিহার করে থাকো? [১০৯] বরং তোমরা তো সীমা-ই অতিক্রম করে গেছো।” [১১০]
﴿ قَالُوۡا لَٮِٕنۡ لَّمۡ تَنۡتَهِ يٰلُوۡطُ لَتَكُوۡنَنَّ مِنَ الۡمُخۡرَجِيۡنَ﴾
তারা বললো, “হে লূত! যদি তুমি এসব কথা থেকে বিরত না হও, তাহলে আমাদের জনপদগুলো থেকে যেসব লোককে বের করে দেয়া হয়েছে তুমিও নির্ঘাত তাদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবে।” [১১১]
﴿ قَالَ اِنِّىۡ لِعَمَلِكُمۡ مِّنَ الۡقَالِيۡنَ﴾
সে বললো, “তোমাদের এসব কৃতকর্মের জন্য যারা দুঃখবোধ করে আমি তাদের অন্তর্ভূক্ত।
﴿ رَبِّ نَجِّنِىۡ وَاَهۡلِىۡ مِمَّا يَعۡمَلُوۡنَ﴾
হে আমার রব! আমাকে ও আমার পরিবার-পরিজনকে এদের কুকর্ম থেকে মুক্তি দাও।” [১১২]
﴿ فَنَجَّيۡنٰهُ وَاَهۡلَهٗۤ اَجۡمَعِيۡنَۙ﴾
শেষে আমি তাঁকে ও তাঁর সমস্ত পরিবার পরিজনকে রক্ষা করলাম,
﴿ اِلَّا عَجُوۡزًا فِىۡ الۡغٰبِرِيۡنَۚ﴾
এক বৃদ্ধ ছাড়া, যে পেছনে অবস্থানকারীদের দলভূক্ত ছিল। [১১৩]
﴿ ثُمَّ دَمَّرۡنَا الۡاٰخَرِيۡنَۚ﴾
তারপর অবশিষ্ট লোকদেরকে আমি ধ্বংস করে দিলাম
﴿ وَاَمۡطَرۡنَا عَلَيۡهِمۡ مَّطَرًاؕ فَسَآءَ مَطَرُ الۡمُنۡذَرِيۡنَ﴾
এবং তাদের ওপর বর্ষণ করলাম একটি বৃষ্টিধারা, যাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছিল তাদের ওপর বর্ষিত এ বৃষ্টি ছিল বড়ই নিকৃষ্ট। [১১৪]
﴿ اِنَّ فِىۡ ذٰلِكَ لَاَيَةًؕ وَّمَا كَانَ اَكۡثَرُهُمۡ مُّؤۡمِنِيۡنَ﴾
নিশ্চিতভাবেই এর মধ্যে রয়েছে একটি নিদর্শন। কিন্তু তাদের মধ্যে অধিকাংশই মান্যকারী নয়।
﴿ وَاِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الۡعَزِيۡزُ الرَّحِيۡمُ﴾
আর প্রকৃতপক্ষে তোমার রব পরাক্রমশালী এবং করুণাময়ও।
﴿ كَذَّبَ اَصۡحٰبُ لْئَيۡكَةِ الۡمُرۡسَلِيۡنَ ۖۚ﴾
আইকাবাসীরা রসূলদের প্রতি মিথ্যারোপ করলো। [১১৫]
﴿ اِذۡ قَالَ لَهُمۡ شُعَيۡبٌ اَلَا تَتَّقُوۡنَۚ﴾
যখন শো’আইব তাদেরকে বলেছিল, “তোমরা কি ভয় করো না?
﴿ اِنِّىۡ لَكُمۡ رَسُوۡلٌ اَمِيۡنٌۙ﴾
আমি তোমাদের জন্য একজন আমানতদার রসূল।
﴿ فَاتَّقُوۡا اللّٰهَ وَاَطِيۡعُوۡنِۚ﴾
কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
﴿ وَمَاۤ اَسۡـَٔلُكُمۡ عَلَيۡهِ مِنۡ اَجۡرٍۚ اِنۡ اَجۡرِىَ اِلَّا عَلٰى رَبِّ الۡعٰلَمِيۡنَؕ﴾
আমি এ কাজে তোমাদের কাছ থেকে কোন প্রতিদান প্রত্যাশী নই। আমার প্রতিদান দেবার দায়িত্ব তো রব্বুল আলামীনের।
﴿ اَوۡفُوۡا الۡكَيۡلَ وَلَا تَكُوۡنُوۡا مِنَ الۡمُخۡسِرِيۡنَ﴾
তোমরা মাপ পূর্ণ করে দাও এবং কাউকে কম দিয়ো না।
﴿ وَزِنُوۡا بِالۡقِسۡطَاسِ الۡمُسۡتَقِيۡمِۚ﴾
সঠিক পাল্লায় ওজন করো
﴿ وَلَا تَبۡخَسُوۡا النَّاسَ اَشۡيَآءَهُمۡ وَلَا تَعۡثَوۡا فِىۡ الۡاَرۡضِ مُفۡسِدِيۡنَۚ﴾
এবং লোকদেরকে তাদের জিনিস কম দিয়ো না। যমীনে বিপর্যয় ছড়িয়ে বেড়িও না
﴿وَاتَّقُوۡا الَّذِىۡ خَلَقَكُمۡ وَالۡجِبِلَّةَ الۡاَوَّلِيۡنَؕ﴾
এবং সেই সত্ত্বাকে ভয় করো যিনি তোমাদের ও অতীতের প্রজন্মকে সৃষ্টি করেছেন।”
﴿ قَالُوۡۤا اِنَّمَاۤ اَنۡتَ مِنَ الۡمُسَحَّرِيۡنَۙ﴾
তারা বললো, “তুমি নিছক একজন যাদুগ্রস্ত ব্যক্তি
﴿ وَمَاۤ اَنۡتَ اِلَّا بَشَرٌ مِّثۡلُنَا وَاِنۡ نَّظُنُّكَ لَمِنَ الۡكٰذِبِيۡنَۚ﴾
এবং তুমি আমাদের মতো মানুষ ছাড়া আর কিছুই নও। আর আমরা তো তোমাকে একেবারেই মিথ্যুক মনে করি।
﴿اَسۡقِطۡ عَلَيۡنَا كِسَفًا مِّنَ السَّمَآءِ اِنۡ كُنۡتَ مِنَ الصّٰدِقِيۡنَؕ﴾
যদি তুমি সত্যবাদী হও তাহলে আকাশের একটি টুকরো ভেঙ্গে আমাদের ওপর ফেলে দাও।”
﴿ قَالَ رَبِّىۡۤ اَعۡلَمُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ﴾
শো’আইব বললো, আমার রব জানেন তোমরা যা কিছু করছো।” [১১৬]
﴿ فَكَذَّبُوۡهُ فَاَخَذَهُمۡ عَذَابُ يَوۡمِ الظُّلَّةِؕ اِنَّهٗ كَانَ عَذَابَ يَوۡمٍ عَظِيۡمٍ﴾
তারা তাঁকে প্রত্যাখ্যান করলো। শেষ পর্যন্ত ছাতার দিনের আযাব তাদের ওপর এসে পড়লো [১১৭] এবং তা ছিল বড়ই ভয়াবহ দিনের আযাব।
﴿ اِنَّ فِىۡ ذٰلِكَ لَاَيَةًؕ وَّمَا كَانَ اَكۡثَرُهُمۡ مُّؤۡمِنِيۡنَ﴾
নিশ্চিতভাবেই এর মধ্যে রয়েছে একটি নিদর্শন। কিন্তু তাদের অধিকাংশ মান্যকারী নয়।
﴿ وَاِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الۡعَزِيۡزُ الرَّحِيۡمُ﴾
আর প্রকৃতপক্ষে তোমার রব পরাক্রমশালী এবং দয়াময়ও।
﴿ وَاِنَّهٗ لَتَنۡزِيۡلُ رَبِّ الۡعٰلَمِيۡنَؕ﴾
এটি [১১৮] রব্বুল আলামীনের নাযিল করা জিনিস। [১১৯]
﴿ نَزَلَ بِهِ الرُّوۡحُ الۡاَمِيۡنُۙ﴾
একে নিয়ে আমানতদার রূহ [১২০]
﴿عَلٰى قَلۡبِكَ لِتَكُوۡنَ مِنَ الۡمُنۡذِرِيۡنَۙ﴾
অবতরণ করেছে তোমার হৃদয়ে, যাতে তুমি তাদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাও যারা (আল্লাহর পক্ষ থেকে আল্লাহর সৃষ্টির জন্য) সতর্ককারী হয়,
﴿ بِلِسَانٍ عَرَبِىٍّ مُّبِيۡنٍؕ﴾
পরিষ্কার আরবী ভাষায়। [১২১]
﴿ وَاِنَّهٗ لَفِىۡ زُبُرِ الۡاَوَّلِيۡنَ﴾
আর আগের লোকদের কিতাবেও এ কথা আছে। [১২২]
﴿ اَوَلَمۡ يَكُنۡ لَّهُمۡ اٰيَةً اَنۡ يَّعۡلَمَهٗ عُلَمٰٓؤُا بَنِىۡۤ اِسۡرآءِيۡلَؕ﴾
এটা কি এদের (মক্কাবাসীদের) জন্য কোন নিদর্শন নয় যে, বনী ইসরাইলের আলেম সমাজ একে জানে? [১২৩]
﴿وَلَوۡ نَزَّلۡنٰهُ عَلٰى بَعۡضِ الۡاَعۡجَمِيۡنَۙ﴾
(কিন্তু এদের হঠকারিতা ও গোয়ার্তুমি এতদূর গড়িয়েছে যে) যদি আমি এটা কোন অনারব ব্যক্তির উপর নাযিল করে দিতাম
﴿فَقَرَاَهٗ عَلَيۡهِمۡ مَّا كَانُوۡا بِهٖ مُؤۡمِنِيۡنَؕ﴾
এবং সে এই (প্রাঞ্জল আরবীয় বাণী) তাদেরকে পড়ে শোনাত তবুও এরা মেনে নিতো না। [১২৪]
﴿ كَذٰلِكَ سَلَكۡنٰهُ فِىۡ قُلُوۡبِ الۡمُجۡرِمِيۡنَؕ﴾
অনুরূপভাবে একে (কথা) আমি অপরাধীদের হৃদয়ে বিদ্ধ করে দিয়েছি। [১২৫]
﴿ لَا يُؤۡمِنُوۡنَ بِهٖ حَتّٰى يَرَوُا الۡعَذَابَ الۡاَلِيۡمَۙ﴾
তারা এর প্রতি ঈমান আনে না যতক্ষণ না কঠিন শাস্তি দেখে নেয়। [১২৬]
﴿ فَيَاۡتِيَهُمۡ بَغۡتَةً وَّهُمۡ لَا يَشۡعُرُوۡنَۙ﴾
তারপর যখন তা অসচেতন অবস্থায় তাদের ওপর এসে পড়ে
﴿ فَيَقُوۡلُوۡا هَلۡ نَحۡنُ مُنۡظَرُوۡنَؕ﴾
তখন তারা বলে, “এখন আমরা কি অবকাশ পেতে পারি?” [১২৭]
﴿ اَفَبِعَذَابِنَا يَسۡتَعۡجِلُوۡنَ﴾
এরা কি আমার আযাব ত্বরান্বিত করতে চাচ্ছে?
﴿ اَفَرَءَيۡتَ اِنۡ مَّتَّعۡنٰهُمۡ سِنِيۡنَۙ﴾
তুমি কি কিছু ভেবে দেখেছো, যদি আমি তাদেরকে বছরের পর বছর ভোগ বিলাসের অবকাশও দিই
﴿ ثُمَّ جَآءَهُمۡ مَّا كَانُوۡا يُوۡعَدُوۡنَۙ﴾
এবং তারপর আবার সেই একই জিনিস তাদের ওপর এসে পড়ে যার ভয় তাদেরকে দেখানো হচ্ছে,
﴿ مَاۤ اَغۡنٰى عَنۡهُمۡ مَّا كَانُوۡا يُمَتَّعُوۡنَؕ﴾
তাহলে জীবন যাপনের এ উপকরণগুলো যা তারা এ যাবত পেয়ে আসছে এগুলো তাদের কোন্ কাজে লাগবে? [১২৮]
﴿وَمَاۤ اَهۡلَكۡنَا مِنۡ قَرۡيَةٍ اِلَّا لَهَا مُنۡذِرُوۡنَ ۛۖ﴾
(দেখো) আমি কখনো কোন জনপদকে তার জন্য উপদেশ
﴿ ذِكۡرٰىۛ وَمَا كُنَّا ظٰلِمِيۡنَ﴾
দেয়ার যোগ্য সতর্ককারী না পাঠিয়ে ধ্বংস করিনি এবং আমি জালেম ছিলাম না। [১২৯]
﴿ وَمَا تَنَزَّلَتۡ بِهِ الشَّيٰطِيۡنُ﴾
এ (সুস্পষ্ট কিতাবটি) নিয়ে শয়তানরা অবতীর্ণ হয়নি। [১৩০]
﴿وَمَا يَنۡۢبَغِىۡ لَهُمۡ وَمَا يَسۡتَطِيۡعُوۡنَؕ﴾
এ কাজটি তাদের শোভাও পায় না। [১৩১] এবং তারা এমনটি করতেই পারে না। [১৩২]
﴿ اِنَّهُمۡ عَنِ السَّمۡعِ لَمَعۡزُوۡلُوۡنَؕ﴾
তাদেরকে তো এর শ্রবণ থেকেও দূরে রাখা হয়েছে। [১৩৩]
﴿فَلَا تَدۡعُ مَعَ اللّٰهِ اِلٰهًا اٰخَرَ فَتَكُوۡنَ مِنَ الۡمُعَذَّبِيۡنَۚ﴾
কাজেই হে মুহাম্মাদ! আল্লাহর সাথে অন্য কোন মাবুদকে ডেকো না, নয়তো তুমিও শাস্তি লাভকারীদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবে। [১৩৪]
﴿وَاَنۡذِرۡ عَشِيۡرَتَكَ الۡاَقۡرَبِيۡنَۙ﴾
নিজের নিকটতম আত্নীয়-পরিজনদেরকে ভয় দেখাও [১৩৫]
﴿ وَاخۡفِضۡ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الۡمُؤۡمِنِيۡنَۚ﴾
এবং মু’মিনদের মধ্য থেকে যারা তোমার অনুসরণ করে তাদের সাথে বিনম্র ব্যবহার করো।
﴿ فَاِنۡ عَصَوۡكَ فَقُلۡ اِنِّىۡ بَرِىۡٓءٌ مِّمَّا تَعۡمَلُوۡنَۚ﴾
কিন্তু যদি তারা তোমার নাফরমানী করে তাহলে তাদেরকে বলে দাও, তোমরা যা কিছু করো আমি তা থেকে দায়মুক্ত। [১৩৬]
﴿ وَتَوَكَّلۡ عَلَى الۡعَزِيۡزِ الرَّحِيۡمِۙ﴾
আর সেই পরাক্রান্ত ও দয়াময়ের উপর নির্ভর করো [১৩৭]
﴿ الَّذِىۡ يَرٰٮكَ حِيۡنَ تَقُوۡمُۙ﴾
যিনি তোমাকে দেখতে থাকেন যখন তুমি ওঠো [১৩৮]
﴿ وَتَقَلُّبَكَ فِىۡ السّٰجِدِيۡنَ﴾
এবং সিজ্দাকারীদের মধ্যে তোমার ওঠা-বসা ও নড়া-চড়ার প্রতি দৃষ্টি রাখেন। [১৩৯]
﴿ اِنَّهٗ هُوَ السَّمِيۡعُ الۡعَلِيۡمُ﴾
তিনি সব কিছুই শোনেন ও জানেন।
﴿ هَلۡ اُنَبِّئُكُمۡ عَلٰى مَنۡ تَنَزَّلُ الشَّيٰطِيۡنُؕ﴾
হে লোকেরা! আমি তোমাদের জানাবো শয়তানরা কার ওপর অবতীর্ণ হয়?
﴿ تَنَزَّلُ عَلٰى كُلِّ اَفَّاكٍ اَثِيۡمٍۙ﴾
তারা তো প্রত্যেক জালিয়াত বদকারের উপর অবতীর্ণ হয়। [১৪০]
﴿ يُلۡقُوۡنَ السَّمۡعَ وَاَكۡثَرُهُمۡ كٰذِبُوۡنَ﴾
শোনা কথা কানে ঢুকিয়ে দেয় এবং এর বেশির ভাগই হয় মিথ্যা। [১৪১]
﴿ وَالشُّعَرَآءُ يَتَّبِعُهُمُ الۡغَاوٗنَؕ﴾
আর কবিরা! তাদের পেছনে চলে পথভ্রান্ত যারা। [১৪২]
﴿ اَلَمۡ تَرَ اَنَّهُمۡ فِىۡ كُلِّ وَادٍ يَّهِيۡمُوۡنَۙ﴾
তুমি কি দেখো না তারা উপত্যকায় উপত্যকায় উদভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়ায় [১৪৩]
﴿ وَاَنَّهُمۡ يَقُوۡلُوۡنَ مَا لَا يَفۡعَلُوۡنَۙ﴾
এবং এমনসব কথা বলে যা তারা করে না? [১৪৪]
﴿ اِلَّا الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوۡا الصّٰلِحٰتِ وَذَكَرُوۡا اللّٰهَ كَثِيۡرًا وَّانتَصَرُوۡا مِنۡۢ بَعۡدِ مَا ظُلِمُوۡاؕ وَسَيَعۡلَمُ الَّذِيۡنَ ظَلَمُوۡۤا اَىَّ مُنۡقَلَبٍ يَّنۡقَلِبُوۡنَ﴾
তারা ছাড়া যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরন করে আর তাদের প্রতি জুলুম করা হলে শুধুমাত্র প্রতিশোধ নেয়। [১৪৫] ---আর জুলুমকারীরা শীঘ্রই জানবে তাদের পরিণাম কি! [১৪৬]