﴿قَدۡ اَفۡلَحَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَۙ﴾
নিশ্চিতভাবেসফলকাম হয়েছে মু’মিনরা [১]
সূরা ২৩ · মাক্কী
Al-Mu'minun · মুমিনগণ · ১১৮ আয়াত
নামকরণ প্রথম আয়াত (আরবী) থেকে সূরার নাম গৃহীত হয়েছে। নাযিলের সময়-কাল বর্ণনাভঙ্গি ও বিষয়বস্তু উভয়টি থেকে জানা যায়, এ সূরাটি মক্কী যুগের মাঝামাঝি সময় নাযিল হয়। প্রেক্ষাপটে পরিষ্কার অনুভব করা যায় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও কাফেরদের মধ্যে ভীষণ সংঘাত চলছে। কিন্তু তখনো কাফেরদের নির্যাতন নিপীড়ন চরমে পৌঁছে যায়নি। ৭৫-৭৬ আয়াত থেকে পরিষ্কার সাক্ষ্য পাওয়া যায় যে, মক্কী যুগের মধ্যভাগে আরবে যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল বলে নির্ভরযোগ্য বর্ণনা থেকে জানা যায় ঠিক সে সময়ই এ সূরাটি নাযিল হয়। উরওয়াহ ইবনে যুবাইরের একটি বর্ণনা থেকে জানা যায়, এ সূরা নাযিল হওয়ার আগেই হযরত উমর (রা.) ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবদুল কারীর বরাত দিয়ে হযরত উমরের (রা.) এ উক্তি উদ্ধৃত করেছেন যে, এ সূরাটি তাঁর সামনে নাযিল হয়। ওহী নাযিলের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবস্থা কি রকম হয় তা তিনি স্বচক্ষেই দেখেছিলেন এবং এ অবস্থা অতিবাহিত হবার পর নবী (সা.) বলেন, এ সময় আমার ওপর এমন দশটি আয়াত নাযিল হয়েছে যে, যদি কেউ সে মানদন্ডে পুরোপুরি উতরে যায় তাহলে সে নিশ্চিত জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারপর তিনি এ সূরার প্রাথমিক আয়াতগুলো শোনান। বক্তব্য ও আলোচ্য বিষয় রসূলের আনুগত্য করার আহবান হচ্ছে এ সূরার কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু। এখানে বিবৃত সমগ্র ভাষণটি এ কেন্দ্রের চারদিকেই আবর্তিত। বক্তব্যের সূচনা এভাবে হয়ঃ যারা এ নবীর কথা মেনে নিয়েছে তাদের মধ্যে অমুক অমুক গুণাবলি সৃষ্টি হচ্ছে এবং নিশ্চিতভাবে এ ধরনের লোকেরাই দুনিয়ায় ও আখিরাতে সাফল্য লাভের যোগ্য হয়। এরপর মানুষের জন্ম, আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি, উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবির্ভাব এবং বিশ্ব-জাহানের অন্যান্য নিদর্শনাবলীর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে একথা মনের মধ্যে গেঁথে দেয়া যে, এ নবী তাওহীদ ও আখিরাতের যে চিরন্তন সত্যগুলো তোমাদের মেনে নিতে বলছেন তোমাদের নিজেদের সত্তা এবং এই সমগ্র বিশ্ব-ব্যবস্থা সেগুলোর সত্যতার সাক্ষ্য দিচ্ছে। তারপর নবীদের ও তাঁদের উম্মতদের কাহিনী শুরু হয়ে গেছে। আপাত দৃষ্টিতে এগুলো কাহিনী মনে হলেও মূলত এ পদ্ধতিতে শ্রোতাদেরকে কিছু কথা বুঝানো হয়েছেঃ একঃ আজ তোমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাওয়াতের ব্যাপারে যেসব সন্দেহ ও আপত্তি উত্থাপন করছ সেগুলো নতুন কিছু নয়। ইতিপূর্বেও যেসব নবী দুনিয়ায় এসেছিলেন, যাদেরকে তোমরা নিজেরাও আল্লাহর নবী বলে স্বীকার করে থাকো, তাঁদের সবার বিরুদ্ধে তাঁদের যুগে মূর্খ ও অজ্ঞ লোকেরা এ একই আপত্তি করেছিল। এখান দেখো ইতিহাসের শিক্ষা কি, আপত্তি উত্থাপনকারীরা সত্যপথে ছিল, না নবীগণ? দুইঃ তাওহীদ ও আখিরাত সম্পর্কে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে শিক্ষা দিচ্ছেন এই একই শিক্ষা প্রত্যেক যুগের নবী দিয়েছেন। তার বাইরে এমন কোন অভিনব জিনিস আজ পেশ করা হচ্ছে না যা দুনিয়াবাসী এর আগে কখনো শোনেনি। তিনঃ যেসব জাতি নবীদের কথা শোনেনি এবং তাঁদের বিরোধিতার ওপর জিদ ধরেছে তারা শেষ পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে গেছে। চারঃ আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রত্যেক যুগে একই দ্বীন এসেছে এবং সকল নবী একই জাতি বা উম্মাহ-ভুক্ত ছিলেন। সেই একমাত্র দ্বীনটি ছাড়া অন্য যেসব বিচিত্র ধর্মমত তোমরা দুনিয়ার চারদিকে দেখতে পাচ্ছ এগুলো সবই মানুষের স্ব-কপোলকল্পিত। এর কোনটাও আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত নয়। এ কাহিনীগুলো বলার পর লোকদেরকে একথা জানানো হয়েছে যে, পার্থিব সমৃদ্ধি, অর্থ-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, প্রভাব-প্রতিপত্তি, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব এমন জিনিস নয় যা কোন ব্যক্তি বা দলের সঠিক পথের অনুসারী হবার নিশ্চিত আলামত হতে পারে। এর মাধ্যমে একথা বুঝা যায় না যে, আল্লাহ তার প্রতি অনুগ্রহশীল এবং তার নীতি ও আচরণ আল্লাহর কাছে প্রিয়। অনুরূপভাবে কারোর গরীব ও দুর্দশাগ্রস্ত হওয়া একথা প্রমাণ করে না যে, আল্লাহ তার ও তার নীতির প্রতি বিরূপ। আসল জিনিস হচ্ছে মানুষের ঈমান, আল্লাহ ভীতি ও সততা। এরই ওপর তার আল্লাহর প্রিয় অপ্রিয় হওয়া নির্ভর করে। একথাগুলো এজন্যে বলা হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাওয়াতের মোকাবিলায় সে সময় যে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছিল তার সকল নায়কই ছিল মক্কার বড় বড় নেতা ও সরদার। তারা নিজেরাও ও আত্মম্ভরিতায় ভুগছিল এবং তাদের প্রভাবাধীন লোকেরাও এ ভুল ধারণার শিকার হয়েছিল যে, যাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ধারা বর্ষিত হচ্ছে এবং যারা একনাগাড়ে সামনের দিকে এগিয়েই চলছে তাদের ওপর নিশ্চয়ই আল্লাহ ও দেবতাদের নেক নজর রয়েছে। আর এ বিধ্বস্ত বিপর্যস্ত লোকেরা যারা মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে আছে এদের নিজেদের অবস্থাই তো একথা প্রমাণ করছে যে, আল্লাহ এদের সাথে নেই এবং দেবতাদের কোপ তো এদের ওপর পড়েই আছে। এরপর মক্কাবাসীদেরকে বিভিন্ন দিক দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুয়াতের ওপর বিশ্বাসী করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাদেরকে জানানো হয়েছে, তোমাদের ওপর এই যে দুর্ভিক্ষ নাযিল হয়েছে এটা একটা সতর্ক বাণী। এ দেখে তোমরা নিজেরা সংশোধিত হয়ে যাও এবং সরল সঠিক পথে এসে যাও, এটাই তোমাদের জন্য ভালো। নয়তো এরপর আসবে আরও কঠিন শাস্তি, যা দেখে তোমরা আর্তনাদ করতে থাকবে। তারপর বিশ্ব-জাহানেও তাদের নিজেদের সত্তার মধ্যে যেসব নিদর্শন রয়েছে সেদিকে তাদের দৃষ্টি নতুন করে আকৃষ্ট করা হয়েছে। মূল বক্তব্য হচ্ছে, চোখ মেলে দেখো। এই নবী যে তাওহীদ ও পরকালীন জীবনের তাৎপর্য ও স্বরূপ তোমাদের জানাচ্ছেন চারদিকে কি তার সাক্ষ্যদানকারী নিদর্শনাবলী ছড়িয়ে নেই? তোমাদের বুদ্ধি ও প্রকৃতি কি তার সত্যতা ও নির্ভুলতার সাক্ষ্য দিচ্ছে না? এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ মর্মে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, তারা তোমার সাথে যাই ব্যবহার করে থাকুক না কেন তুমি ভালোভাবে তাদের প্রত্যুত্তর দাও। শয়তান যেন কখনো তোমাকে আবেগ উচ্ছল করে দিয়ে মন্দের জবাবে মন্দ করতে উদ্বুদ্ধ করার সুযোগ না পায়। বক্তব্য শেষে সত্য বিরোধীদেরকে আখিরাতে জবাবদিহির ভয় দেখানো হয়েছে। তাদেরকে এ মর্মে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে যে, তোমরা সর্তের আহবায়ক ও তাঁর অনুসারীদের সাথে যা করছ সেজন্য তোমাদের কঠোর জবাবদিহির সম্মুখীন হতে হবে।
﴿قَدۡ اَفۡلَحَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَۙ﴾
নিশ্চিতভাবেসফলকাম হয়েছে মু’মিনরা [১]
﴿ الَّذِيۡنَ هُمۡ فِىۡ صَلَاتِهِمۡ خٰشِعُوۡنَۙ﴾
যারাঃ নিজেদের [২] নামাযে বিনয়াবনত [৩] হয়,
﴿وَالَّذِيۡنَ هُمۡ عَنِ اللَّغۡوِ مُعۡرِضُوۡنَۙ﴾
বাজে কাজ থেকে দূরে থাকে, [৪]
﴿وَالَّذِيۡنَ هُمۡ لِلزَّكٰوةِ فٰعِلُوۡنَۙ﴾
যাকাতের পথে সক্রিয় থাকে, [৫]
﴿ وَالَّذِيۡنَ هُمۡ لِفُرُوۡجِهِمۡ حٰفِظُوۡنَۙ﴾
নিজেদের লজ্জা-স্থানের হেফাজত করে, [৬]
﴿ اِلَّا عَلٰٓى اَزۡوَاجِهِمۡ اَوۡ مَا مَلَكَتۡ اَيۡمَانُهُمۡ فَاِنَّهُمۡ غَيۡرُ مَلُوۡمِيۡنَۚ﴾
নিজেদের স্ত্রীদের ও অধিকারভুক্ত বাঁদিদের ছাড়া, এদের কাছে (হেফাজত না করলে) তারা তিরস্কৃত হবে না,
﴿ فَمَنِ ابۡتَغٰى وَرَآءَ ذٰلِكَ فَاُولٰٓٮِٕكَ هُمُ الۡعٰدُوۡنَۚ﴾
তবে যারা এর বাইরে আরও কিছু চাইবে তারাই হবে সীমালংঘনকারী, [৭]
﴿ وَالَّذِيۡنَ هُمۡ لِاَمٰنٰتِهِمۡ وَعَهۡدِهِمۡ رٰعُوۡنَۙ﴾
নিজেদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে [৮]
﴿ وَالَّذِيۡنَ هُمۡ عَلٰى صَلَوٰتِهِمۡ يُحَافِظُوۡنَۘ﴾
এবং নিজেদের নামায গুলো রক্ষণাবেক্ষণ করে, [৯]
﴿ اُولٰٓٮِٕكَ هُمُ الۡوٰرِثُوۡنَۙ﴾
তারাই এমন ধরনের উত্তরাধিকারী যারা নিজেদের উত্তরাধিকার হিসেবে ফিরদাউস, [১০] লাভ করবে
﴿ الَّذِيۡنَ يَرِثُوۡنَ الۡفِرۡدَوۡسَؕ هُمۡ فِيۡهَا خٰلِدُوۡنَ﴾
এবং সেখানে তারা থাকবে চিরকাল। [১১]
﴿وَلَقَدۡ خَلَقۡنَا الۡاِنۡسَانَ مِنۡ سُلٰلَةٍ مِّنۡ طِيۡنٍۚ﴾
আমি মানুষকে তৈরী করেছি মাটির উপাদান থেকে,
﴿ ثُمَّ جَعَلۡنٰهُ نُطۡفَةً فِىۡ قَرَارٍ مَّكِيۡنٍ﴾
তারপর তাকে একটি সংরক্ষিত স্থানে টপ্কে পড়া ফোঁটায় পরিবর্তত করেছি,
﴿ ثُمَّ خَلَقۡنَا النُّطۡفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقۡنَا الۡعَلَقَةَ مُضۡغَةً فَخَلَقۡنَا الۡمُضۡغَةَ عِظٰمًا فَكَسَوۡنَا الۡعِظٰمَ لَحۡمًا ثُمَّ اَنۡشَاۡنٰهُ خَلۡقًا اٰخَرَؕ فَتَبٰرَكَ اللّٰهُ اَحۡسَنُ الۡخٰلِقِيۡنَؕ﴾
এরপর সেই ফোঁটাকে জমাট রক্তপিন্ডে পরিণত করেছি, তারপর সেই রক্তপিন্ডকে মাংসপিন্ডে পরিণত করেছি, এরপর মাংসপিন্ডে অস্থি-পঞ্জর স্থাপন করেছি, তারপর অস্থি-পঞ্জরকে ঢেকে দিয়েছি গোশত দিয়ে, [১২] তারপর তাকে দাঁড় করেছি স্বতন্ত্র একটি সৃষ্টি রূপে। [১৩] কাজেই আল্লাহ বড়ই বরকত সম্পন্ন, [১৪] সকল কারিগরের চাইতে উত্তম কারিগর তিনি।
﴿ ثُمَّ اِنَّكُمۡ بَعۡدَ ذٰلِكَ لَمَيِّتُوۡنَؕ﴾
এরপর তোমাদের অবশ্যই মরতে হবে,
﴿ ثُمَّ اِنَّكُمۡ يَوۡمَ الۡقِيٰمَةِ تُبۡعَثُوۡنَ﴾
তারপর কিয়ামতের দিন নিশ্চিতভাবেই তোমাদের পুনরুজ্জীবিত করা হবে।
﴿ وَلَقَدۡ خَلَقۡنَا فَوۡقَكُمۡ سَبۡعَ طَرَآٮِٕقَۖ وَمَا كُنَّا عَنِ الۡخَلۡقِ غٰفِلِيۡنَ﴾
আর তোমাদের ওপর আমি সাতটি পথ নির্মাণ করেছি, [১৫] সৃষ্টিকর্ম আমার মোটেই অজানা ছিল না। [১৬]
﴿وَاَنۡزَلۡنَا مِنَ السَّمَآءِ مَآءًۢ بِقَدَرٍ فَاَسۡكَنّٰهُ فِىۡ الۡاَرۡضِؕ وَاِنَّا عَلٰى ذَهَابٍۢ بِهٖ لَقٰدِرُوۡنَۚ﴾
আর আকাশ থেকে আমি ঠিক হিসেব মতো একটি বিশেষ পরিমাণ অনুযায়ী পানি বর্ষণ করেছি এবং তাকে ভূমিতে সংরক্ষণ করেছি। [১৭] আমি তাকে যেভাবে ইচ্ছা অদৃশ্য করে দিতে পারি। [১৮]
﴿ فَاَنۡشَاۡنَا لَكُمۡ بِهٖ جَنّٰتٍ مِّنۡ نَّخِيۡلٍ وَّاَعۡنَابٍۘ لَّكُمۡ فِيۡهَا فٰوكِهُ كَثِيۡرَةٌ وَّمِنۡهَا تَاۡكُلُوۡنَۙ﴾
তারপর এ পানির মাধ্যমে আমি তোমাদের জন্য খেজুর ও আংগুরের বাগান সৃষ্টি করেছি। তোমাদের জন্যই এ বাগানগুলোয় রয়েছে প্রচুর সুস্বাদু ফল [১৯] এবং সেগুলো থেকে তোমরা জীবিকা লাভ করে থাকো। [২০]
﴿ وَشَجَرَةً تَخۡرُجُ مِنۡ طُوۡرِ سَيۡنَآءَ تَنۡۢبُتُ بِالدُّهۡنِ وَصِبۡغٍ لِّلۡاٰكِلِيۡنَ﴾
আর সিনাই পাহাড়ে যে গাছ জন্মায় তাও আমি সৃষ্টি করেছি [২১] তা তেল উৎপাদন করে এবং আহারকারীদের জন্য তরকারীও।
﴿ وَاِنَّ لَكُمۡ فِىۡ الۡاَنۡعَامِ لَعِبۡرَةًؕ نُّسۡقِيۡكُمۡ مِّمَّا فِىۡ بُطُوۡنِهَا وَلَكُمۡ فِيۡهَا مَنَافِعُ كَثِيۡرَةٌ وَّمِنۡهَا تَاۡكُلُوۡنَۙ﴾
আর প্রকৃতপক্ষে তোমাদের জন্য গবাদী পশুদের মধ্যেও একটি শিক্ষা রয়েছে। তাদের পেটের মধ্যে যা কিছু আছে তা থেকে একটি জিনিস আমি তোমাদের পান করাই [২২] এবং তোমাদের জন্য তাদের মধ্যে আরো অনেক উপকারিতাও আছে, তাদেরকে তোমরা খেয়ে থাকো
﴿ وَعَلَيۡهَا وَعَلَى الۡفُلۡكِ تُحۡمَلُوۡنَ﴾
এবং তাদের ওপর ও নৌযানে আরোহণও করে থাকো। [২৩]
﴿ وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا نُوۡحًا اِلٰى قَوۡمِهٖ فَقَالَ يٰقَوۡمِ اعۡبُدُوۡا اللّٰهَ مَا لَكُمۡ مِّنۡ اِلٰهٍ غَيۡرُهٗۤۖ اَفَلَا تَتَّقُوۡنَ﴾
আমি নূহকে পাঠালাম তার সম্প্রদায়ের কাছে। [২৪] সে বললো, “হে আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা! আল্লাহর বন্দেগী করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোন মাবুদ নেই, তোমরা কি ভয় করো না? [২৫]
﴿ فَقَالَ الۡمَلَؤُا الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا مِنۡ قَوۡمِهٖ مَا هٰذَاۤ اِلَّا بَشَرٌ مِّثۡلُكُمۡ يُرِيۡدُ اَنۡ يَّتَفَضَّلَ عَلَيۡكُمۡؕ وَلَوۡ شَآءَ اللّٰهُ لَاَنۡزَلَ مَلٰٓٮِٕكَةًۖ مَّا سَمِعۡنَا بِهٰذَا فِىۡۤ اٰبَآٮِٕنَا الۡاَوَّلِيۡنَ﴾
তার সম্প্রদায়ের যেসব সরদার তার কথা মেনে নিতে অস্বীকার করলো তারা বলতে লাগলো, “এ ব্যক্তি আর কিছুই নয় কিন্তু তোমাদেরই মতো একজন মানুষ। [২৬] এর লক্ষ্য হচ্ছে তোমাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা। [২৭] আল্লাহ পাঠাতে চাইলে ফেরেশতা পাঠাতেন। [২৭(ক)] একথা তো আমরা আমাদের বাপদাদাদের আমলে কখনো শুনিনি (যে, মানুষ রসূল হয়ে আসে) ।
﴿ اِنۡ هُوَ اِلَّا رَجُلٌۢ بِهٖ جِنَّةٌ فَتَرَبَّصُوۡا بِهٖ حَتّٰى حِيۡنٍ﴾
কিছুই নয়, শুধুমাত্র এ লোকটিকে একটু পাগলামিতে পেয়ে বসেছে, কিছু দিন আরো দেখে নাও (হয়তো পাগলামি ছেড়ে যাবে) ।”
﴿ قَالَ رَبِّ انصُرۡنِىۡ بِمَا كَذَّبُوۡنِ﴾
নূহ বললো, “হে পরওয়ারদিগার! এরা যে আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করছে এ জন্য তুমিই আমাকে সাহায্য করো।” [২৮]
﴿ فَاَوۡحَيۡنَاۤ اِلَيۡهِ اَنِ اصۡنَعِ الۡفُلۡكَ بِاَعۡيُنِنَا وَوَحۡيِنَا فَاِذَا جَآءَ اَمۡرُنَا وَفَارَ التَّنُّوۡرُۙ فَاسۡلُكۡ فِيۡهَا مِنۡ كُلٍّ زَوۡجَيۡنِ اثۡنَيۡنِ وَاَهۡلَكَ اِلَّا مَنۡ سَبَقَ عَلَيۡهِ الۡقَوۡلُ مِنۡهُمۡۚ وَلَا تُخَاطِبۡنِىۡ فِىۡ الَّذِيۡنَ ظَلَمُوۡٓاۚ اِنَّهُمۡ مُّغۡرَقُوۡنَ﴾
আমি তার কাছে অহী করলাম, “আমার তত্বাবধানে এবং আমার অহী মোতাবেক নৌকা তৈরী করো। তারপর যখন আমার হুকুম এসে যাবে এবং চুলা উথলে উঠবে [২৯] তখন তুমি সব ধরনের প্রাণীদের এক একটি জোড়া নিয়ে এতে আরোহণ করো এবং পরিবার পরিজনদেরকেও সঙ্গে নাও, তাদের ছাড়া যাদের বিরুদ্ধে আগেই ফায়সালা হয়ে গেছে এবং জালেমদের ব্যাপারে আমাকে কিছুই বলো না, তারা এখন ডুবতে যাচ্ছে।
﴿ فَاِذَا اسۡتَوَيۡتَ اَنۡتَ وَمَنۡ مَّعَكَ عَلَى الۡفُلۡكِ فَقُلِ الۡحَمۡدُ لِلّٰهِ الَّذِىۡ نَجّٰٮنَا مِنَ الۡقَوۡمِ الظّٰلِمِيۡنَ﴾
তারপর যখন তুমি নিজের সাথীদের নিয়ে নৌকায় আরোহণ করবে তখন বলবে, আল্লাহর শোকর, যিনি আমাদের উদ্ধার করেছেন জালেমদের হাত থেকে। [৩০]
﴿ وَقُل رَّبِّ اَنۡزِلۡنِىۡ مُنۡزَلاً مُّبٰرَكًا وَّاَنۡتَ خَيۡرُ الۡمُنۡزِلِيۡنَ﴾
আর বলো, হে পরওয়ারদিগার! আমাকে নামিয়ে দাও বরকতপূর্ণ স্থানে এবং তুমি সর্বোত্তম স্থান দানকারী।” [৩১]
﴿اِنَّ فِىۡ ذٰلِكَ لَاَيٰتٍ وَّاِنۡ كُنَّا لَمُبۡتَلِيۡنَ﴾
এ কাহিনীতে বিরাট নিদর্শনাবলী রয়েছে, [৩২] আর পরীক্ষা তো আমি করেই থাকি। [৩৩]
﴿ ثُمَّ اَنۡشَاۡنَا مِنۡۢ بَعۡدِهِمۡ قَرۡنًا اٰخَرِيۡنَۚ﴾
তাদের পরে আমি অন্য এক যুগের জাতির উত্থান ঘটালাম। [৩৪]
﴿ فَاَرۡسَلۡنَا فِيۡهِمۡ رَسُوۡلاً مِّنۡهُمۡ اَنِ اعۡبُدُوۡا اللّٰهَ مَا لَكُمۡ مِّنۡ اِلٰهٍ غَيۡرُهٗؕ اَفَلَا تَتَّقُوۡنَ﴾
তারপর তাদের মধ্যে স্বয়ং তাদের সম্প্রদায়ের একজন রসূল পাঠালাম (যে তাদেরকে দাওয়াত দিল এ মর্মে যে, ) আল্লাহর বন্দেগী করো, তোমাদের জন্য তিনি ছাড়া আর কোন মাবূদ নেই, তোমরা কি ভয় করো না?
﴿ وَقَالَ الۡمَلَاُ مِنۡ قَوۡمِهِ الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا وَكَذَّبُوۡا بِلِقَآءِ الۡاٰخِرَةِ وَاَتۡرَفۡنٰهُمۡ فِىۡ الۡحَيٰوةِ الدُّنۡيَاۙ مَا هٰذَاۤ اِلَّا بَشَرٌ مِّثۡلُكُمۡۙ يَاۡكُلُ مِمَّا تَاۡكُلُوۡنَ مِنۡهُ وَيَشۡرَبُ مِمَّا تَشۡرَبُوۡنَ﴾
তার সম্প্রদায়ের যেসব সরদার ঈমান আনতে অস্বীকার করেছিল এবং আখেরাতের সাক্ষাতকারকে মিথ্যা বলেছিল, যাদেরকে আমি দুনিয়ার জীবনে প্রাচুর্য দান করেছিলাম, [৩৫] তারাবলতে লাগলো, “এ ব্যক্তি তোমাদেরই মতো একজন মানুষ ছাড়া আর কিছুই নয়। তোমরা যা কিছু খাও তা-ই সে খায় এবং তোমরা যা কিছু পান করো তা-ই সে পান করে।
﴿ وَلَٮِٕنۡ اَطَعۡتُمۡ بَشَرًا مِّثۡلَكُمۡ اِنَّكُمۡ اِذًا لَّخٰسِرُوۡنَۙ﴾
এখন যদি তোমরা নিজেদেরই মতো একজন মানু্ষের আনুগত্য করো তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। [৩৬]
﴿ اَيَعِدُكُمۡ اَنَّكُمۡ اِذَا مِتُّمۡ وَكُنۡتُمۡ تُرَابًا وَّعِظَامًا اَنَّكُمۡ مُّخۡرَجُوۡنَۙ﴾
সে কি তোমাদেরকে একথা জানায় যে, যখন তোমরা সবার পরে মাটিতে মিশে যাবে এবং হাড়গোড়ে পরিণত হবে তখন তোমাদেরকে (কবর থেকে) বের করা হবে?
﴿ هَيۡهَاتَ هَيۡهَاتَ لِمَا تُوۡعَدُوۡنَۙ﴾
অসম্ভব, তোমাদের সাথে এই যে অঙ্গীকার করা হচ্ছে এটা একেবারেই অসম্ভব।
﴿ اِنۡ هِىَ اِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنۡيَا نَمُوۡتُ وَنَحۡيَا وَمَا نَحۡنُ بِمَبۡعُوۡثِيۡنَۙ﴾
জীবন কিছুই নয়, ব্যস এ পার্থিব জীবনটি ছাড়া, এখানেই আমরা মরি-বাঁচি এবং আমাদের কখ্খনো পুরুজ্জীবিত করা হবে না।
﴿ اِنۡ هُوَ اِلَّا رَجُلُ افۡتَرٰى عَلَى اللّٰهِ كَذِبًا وَّمَا نَحۡنُ لَهٗ بِمُؤۡمِنِيۡنَ﴾
এ ব্যক্তি আল্লাহর নামে নিছক মিথ্যা তৈরী করছে [৩৬(ক)] এবং আমরা কখনো তার কথা মেনে নিতে প্রস্তুত নই।”
﴿ قَالَ رَبِّ انصُرۡنِىۡ بِمَا كَذَّبُوۡنِ﴾
রসূল বললো, “হে আমার রব! এ লোকেরা যে আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করলো এ ব্যাপারে এখন তুমিই আমাকে সাহায্য করো।”
﴿ قَالَ عَمَّا قَلِيۡلٍ لَّيُصۡبِحُنَّ نٰدِمِيۡنَۚ﴾
জবাবে বলা হলো, “অচিরেই তারা নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা করবে।”
﴿فَاَخَذَتۡهُمُ الصَّيۡحَةُ بِالۡحَقِّ فَجَعَلۡنٰهُمۡ غُثَآءًۚ فَبُعۡدًا لِّلۡقَوۡمِ الظّٰلِمِيۡنَ﴾
শেষ পর্যন্ত যথাযথ সত্য অনুযায়ী একটি মহা গোলযোগ তাদেরকে ধরে ফেললো এবং আমি তাদেরকে কাদা [৩৭] বানিয়ে নিক্ষেপ করলাম-দূর হয়ে যাও জালেম জাতি!
﴿ ثُمَّ اَنۡشَاۡنَا مِنۡۢ بَعۡدِهِمۡ قُرُوۡنًا اٰخَرِيۡنَؕ﴾
তারপর আমি তাদের পরে অন্য জাতিদের উঠিয়েছি।
﴿ مَا تَسۡبِقُ مِنۡ اُمَّةٍ اَجَلَهَا وَمَا يَسۡتَـاۡخِرُوۡنَ﴾
কোন জাতি তার সময়ের পূর্বে শেষ হয়নি এবং তার পরে টিকে থাকতে পারেনি।
﴿ ثُمَّ اَرۡسَلۡنَا رُسُلَنَا تَتۡرَاؕ كُلَّ مَا جَآءَ اُمَّةً رَّسُوۡلُهَا كَذَّبُوۡهُ فَاَتۡبَعۡنَا بَعۡضَهُمۡ بَعۡضًا وَّجَعَلۡنٰهُمۡ اَحَادِيۡثَۚ فَبُعۡدًا لِّقَوۡمٍ لَّا يُؤۡمِنُوۡنَ﴾
তারপর আমি একের পর এক নিজের রসূল পাঠিয়েছি। যে জাতির কাছেই তার রসূল এসেছে সে-ই তার প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছে, আর আমি একেরপর এক জাতিকে ধ্বংস করে গেছি এমনকি তাদেরকে স্রেফ কাহিনীই বানিয়ে ছেড়েছি,--অভিসম্পাত তাদের প্রতি যারা ঈমান আনে না। [৩৮]
﴿ ثُمَّ اَرۡسَلۡنَا مُوۡسٰى وَاَخَاهُ هٰرُوۡنَ ۙ بِاٰيٰتِنَا وَسُلۡطٰنٍ مُّبِيۡنٍۙ﴾
তারপর আমি মূসা ও তার ভাই হারুনকে নিজের নিদর্শনাবলী ও সুস্পষ্ট প্রমাণ [৩৯] সহকারে ফেরাউন ও তার রাজ পারিষদদের কাছে পাঠালাম।
﴿ اِلٰى فِرۡعَوۡنَ وَمَلَاِئِهٖ فَاسۡتَكۡبَرُوۡا وَكَانُوۡا قَوۡمًا عَالِيۡنَ﴾
কিন্তু তারা অহংকার করলো এবং তারা ছিল বড়ই আস্ফালনকারী। [৪০]
﴿ فَقَالُوۡۤا اَنُؤۡمِنُ لِبَشَرَيۡنِ مِثۡلِنَا وَقَوۡمُهُمَا لَنَا عٰبِدُوۡنَۚ﴾
তারা বলতে লাগলো, “আমরা কি আমাদেরই মতো দু’জন লোকের প্রতি ঈমান আনবো? [৪০(ক)] আর তারা আবার এমন লোক যাদের সম্প্রদায় আমাদের দাস।” [৪১]
﴿ فَكَذَّبُوۡهُمَا فَكَانُوۡا مِنَ الۡمُهۡلَكِيۡنَ﴾
কাজেই তারা উভয়কে প্রত্যাখ্যান করলো এবং ধ্বংসপ্রাপ্তদের মধ্যে শামিল হলো। [৪২]
﴿ وَلَقَدۡ اٰتَيۡنَا مُوۡسَى الۡكِتٰبَ لَعَلَّهُمۡ يَهۡتَدُوۡنَ﴾
আর মুসাকে আমি কিতাব দান করেছি যাতে লোকেরা তার সাহায্যে পথের দিশা পায়।
﴿وَجَعَلۡنَا ابۡنَ مَرۡيَمَ وَاُمَّهٗۤ اٰيَةً وَّاَاوَيۡنٰهُمَاۤ اِلٰى رَبۡوَةٍ ذَاتِ قَرَارٍ وَّمَعِيۡنٍ﴾
আর মারয়ামপুত্রও তার মাকে আমি একটি নিদর্শনে পরিণত করেছিলাম [৪৩] এবং তাদেরকে রেখেছিলাম একটি সুউচ্চ ভূমিতে, সে স্থানটি ছিল নিরাপদ এবং সেখানে স্রোতম্বিনী প্রবহমান ছিল। [৪৪]
﴿ يٰۤاَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوۡا مِنَ الطَّيِّبٰتِ وَاعۡمَلُوۡا صَالِحًاؕ اِنِّىۡ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ عَلِيۡمٌؕ﴾
হে রসূল! [৪৫] পাক-পবিত্র জিনিস খাও এবং সৎকাজ করো। [৪৬] তোমারা যা কিছুই করো না কেন আমি তা ভালোভাবেই জানি।
﴿ وَاِنَّ هٰذِهٖۤ اُمَّتُكُمۡ اُمَّةً وَّاحِدَةً وَّاَنَا۟ رَبُّكُمۡ فَاتَّقُوۡنِ﴾
আর তোমাদের এ উম্মত হচ্ছে একই উম্মত এবং আমি তোমাদের রব, কাজেই আমাকেই তোমরা ভয় করো। [৪৭]
﴿ فَتَقَطَّعُوۡۤا اَمۡرَهُمۡ بَيۡنَهُمۡ زُبُرًاؕ كُلُّ حِزۡبٍۭ بِمَا لَدَيۡهِمۡ فَرِحُوۡنَ﴾
কিন্তু পরে লোকেরা নিজেদের দ্বীনকে পরস্পরের মধ্যে টুকরো করে নিয়েছে। প্রত্যেক দলের কাছে যা কিছু আছে তার মধ্যেই নিমগ্ন হয়ে গেছে। [৪৮]
﴿ فَذَرۡهُمۡ فِىۡ غَمۡرَتِهِمۡ حَتّٰى حِيۡنٍ﴾
----বেশ, তাহলে ছেড়ে দাও তাদেরকে, ডুবে থাকুক নিজেদের গাফিলতির মধ্যে একটি বিশেষ সময় পর্যন্ত। [৪৯]
﴿ اَيَحۡسَبُوۡنَ اَنَّمَا نُمِدُّهُمۡ بِهٖ مِنۡ مَّالٍ وَّبَنِيۡنَۙ﴾
তারা কি মনে করে, আমি যে তাদেরকে অর্থ ও সন্তান দিয়ে সাহায্য করে যাচ্ছি,
﴿ نُسَارِعُ لَهُمۡ فِىۡ الۡخَيۡرٰتِؕ بَل لَّا يَشۡعُرُوۡنَ﴾
তা দ্বারা আমি তাদেরকে কল্যাণ দানে তৎপর রয়েছি? না, আসল ব্যাপার সম্পর্কে তাদের কোন চেতনাই নেই। [৫০]
﴿اِنَّ الَّذِيۡنَ هُمۡ مِّنۡ خَشۡيَةِ رَبِّهِمۡ مُّشۡفِقُوۡنَۙ﴾
আসলে কল্যাণের দিকে দৌড়ে যাওয়া ও অগ্রসর হয়ে তা অর্জনকারী লোক [৫০(ক)] তো তারাই যারা নিজেদের রবের ভয়ে ভীত, [৫১]
﴿ وَالَّذِيۡنَ هُمۡ بِاٰيٰتِ رَبِّهِمۡ يُؤۡمِنُوۡنَۙ﴾
যারা নিজেদের রবের আয়াতের প্রতি ঈমান আনে, [৫২]
﴿ وَالَّذِيۡنَ هُمۡ بِرَبِّهِمۡ لَا يُشۡرِكُوۡنَۙ﴾
যারা নিজেদের রবের সাথে কাউকে শরীক করে না [৫৩]
﴿ وَالَّذِيۡنَ يُؤۡتُوۡنَ مَاۤ اٰتَوا وَّقُلُوۡبُهُمۡ وَجِلَةٌ اَنَّهُمۡ اِلٰى رَبِّهِمۡ رٰجِعُوۡنَۙ﴾
এবং যাদের অবস্থা হচ্ছে এই যে, যা কিছুই দেয় এমন অবস্থায় দেয় যে,
﴿ اُولٰٓٮِٕكَ يُسٰرِعُوۡنَ فِىۡ الۡخَيۡرٰتِ وَهُمۡ لَهَا سٰبِقُوۡنَ﴾
তাদের অন্তর এ চিন্তায় কাঁপতে থাকে যে, তাদেরকে তাদের রবের কাছে ফিরে যেতে হবে। [৫৪]
﴿ وَلَا نُكَلِّفُ نَفۡسًا اِلَّا وُسۡعَهَا وَلَدَيۡنَا كِتٰبٌ يَّنۡطِقُ بِالۡحَقِّ وَهُمۡ لَا يُظۡلَمُوۡنَ﴾
আমি কোন ব্যক্তির ওপর, [৫৪(ক)] তার সাধ্যের বাইরে কোন দায়িত্ব অর্পণ করি না [৫৫] এবং আমার কাছে একটি কিতাব আছে যা (প্রত্যেকের অবস্থা) ঠিকমতো জানিয়ে দেয় [৫৬] আর কোনোক্রমেই লোকদের প্রতি জুলুম করা হবে না। [৫৭]
﴿بَلۡ قُلُوۡبُهُمۡ فِىۡ غَمۡرَةٍ مِّنۡ هٰذَا وَلَهُمۡ اَعۡمَالٌ مِّنۡ دُوۡنِ ذٰلِكَ هُمۡ لَهَا عٰمِلُوۡنَ﴾
কিন্তু তারা এ ব্যাপারে অচেতন। [৫৮] আর তাদের কার্যাবলীও এ পদ্ধতির (যা ওপরে বর্ণনা করা হয়েছে) বিপরীত। তারা নিজেদের এসব কাজ করে যেতে থাকবে,
﴿ حَتّٰۤى اِذَاۤ اَخَذۡنَا مُتۡرَفِيۡهِمۡ بِالۡعَذَابِ اِذَا هُمۡ يَجۡـَٔرُوۡنَؕ﴾
অবশেষে যখন আমি তাদের বিলাসপ্রিয়দেরকে আযাবের মাধ্যমে পাকড়াও করবো [৫৯] তখন তারা আবার চিৎকার করতে থাকবে [৬০]
﴿ لَا تَجۡـَٔرُوۡا الۡيَوۡمَ اِنَّكُمۡ مِّنَّا لَا تُنۡصَرُوۡنَ﴾
---এখন বন্ধ করো [৬১] তোমাদের আর্তচিৎকার আমার পক্ষ থেকে এখন কোন সাহায্য দেয়া হবে না।
﴿ قَدۡ كَانَتۡ اٰيٰتِىۡ تُتۡلٰى عَلَيۡكُمۡ فَكُنۡتُمۡ عَلٰٓى اَعۡقَابِكُمۡ تَنۡكِصُوۡنَۙ﴾
আমার আয়াত তোমাদের শোনানো হতো, তোমরা তো (রসূলের আওয়াজ শুনতেই) পিছন ফিরে কেটে পড়তে, [৬২]
﴿ مُسۡتَكۡبِرِيۡنَۖ بِهٖ سٰمِرًا تَهۡجُرُوۡنَ﴾
অহংকারের সাথে তা অগ্রাহ্য করতে, নিজেদের আড্ডায় বসে তার সম্পর্কে গল্প দিতে [৬৩] ও আজেবাজে কথা বলতে।
﴿ اَفَلَمۡ يَدَّبَّرُوۡا الۡقَوۡلَ اَمۡ جَآءَهُمۡ مَّا لَمۡ يَاۡتِ اٰبَآءَهُمُ الۡاَوَّلِيۡنَ﴾
তারা কি কখনো এ বাণী সম্পর্কে চিন্তা করেনি? [৬৪] অথবা সে এমন কথা নিয়ে এসেছে যা কখনো তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে আসেনি? [৬৫]
﴿ اَمۡ لَمۡ يَعۡرِفُوۡا رَسُوۡلَهُمۡ فَهُمۡ لَهٗ مُنۡكِرُوۡنَ﴾
কিংবা তারা নিজেদের রসূলকে কখনো চিনতো না বলেই (অপরিচিত ব্যক্তি হবার কারণে) তাকে অস্বীকার করে? [৬৬]
﴿ اَمۡ يَقُوۡلُوۡنَ بِهٖ جِنَّةٌؕ بَلۡ جَآءَهُمۡ بِالۡحَقِّ وَاَكۡثَرُهُمۡ لِلۡحَقِّ كٰرِهُوۡنَ﴾
অথবা তারাকি একথা বলে যে, সে উন্মাদ? [৬৭] না, বরং সে সত্য নিয়ে এসেছে এবং সত্যই তাদের অধিকাংশের কাছে অপছন্দনীয়।
﴿ وَلَوِ اتَّبَعَ الۡحَقُّ اَهۡوَآءَهُمۡ لَفَسَدَتِ السَّمٰوٰتُ وَالۡاَرۡضُ وَمَنۡ فِيۡهِنَّؕ بَلۡ اَتَيۡنٰهُمۡ بِذِكۡرِهِمۡ فَهُمۡ عَنۡ ذِكۡرِهِمۡ مُّعۡرِضُوۡنَؕ﴾
----আর সত্যযদি কখনো তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করতো তাহলে আকাশ ও পৃথিবী এবং তাদের মধ্যের সবকিছুর ব্যবস্থাপনা ওলট-পালট হয়ে যেতো [৬৮] ---না, বরং আমি তাদের নিজেদের কথাই তাদের কাছে এনেছি এবং তারা নিজেদের কথা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। [৬৯]
﴿ اَمۡ تَسۡـَٔلُهُمۡ خَرۡجًا فَخَرٰجُ رَبِّكَ خَيۡرٌۖ وَّهُوَ خَيۡرُ الرّٰزِقِيۡنَ﴾
তুমি কি তাদের কাছে কিছু চাচ্ছো? তোমার জন্য তোমার রব যা দিয়েছেন, সেটাই ভালো এবং তিনি সবচেয়ে ভালো রিযিকদাতা। [৭০]
﴿وَاِنَّكَ لَتَدۡعُوۡهُمۡ اِلٰى صِرَاطٍ مُّسۡتَقِيۡمٍ﴾
তুমি তো তাদেরকে সহজ সরল পথের দিকে ডাকছো,
﴿وَاِنَّ الَّذِيۡنَ لَا يُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَةِ عَنِ الصِّرَاطِ لَنٰكِبُوۡنَ﴾
কিন্তু যারা পরকাল স্বীকার করে না তারা সঠিক পথ থেকে সরে ভিন্ন পথে চলতে চায়। [৭১]
﴿ وَلَوۡ رَحِمۡنٰهُمۡ وَكَشَفۡنَا مَا بِهِمۡ مِّنۡ ضُرٍّ لَّلَجُّوۡا فِىۡ طُغۡيَانِهِمۡ يَعۡمَهُوۡنَ﴾
যদি আমি তাদের প্রতি করুণা করি এবং বর্তমানে তারা যে দুঃখ-কষ্টে ভুগছে তা দূর করে দেই, তাহলে তারা নিজেদের অবাধ্যতার স্রোতে একেবারেই ভেসে যাবে। [৭২]
﴿وَلَقَدۡ اَخَذۡنٰهُمۡ بِالۡعَذَابِ فَمَا اسۡتَكَانُوۡا لِرَبِّهِمۡ وَمَا يَتَضَرَّعُوۡنَ﴾
তাদের অবস্থা হচ্ছে এই যে, আমি তাদের দুঃখ-কষ্টে ফেলে দিয়েছি, তারপরও তারা নিজেদের রবের সামনে নত হয়নি এবং বিনয় ও দ্বীনতাও অবলম্বন করে না।
﴿ حَتّٰٓى اِذَا فَتَحۡنَا عَلَيۡهِمۡ بَابًا ذَا عَذَابٍ شَدِيۡدٍ اِذَا هُمۡ فِيۡهِ مُبۡلِسُوۡنَ﴾
তবে যখন অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যাবে যে, আমি তাদের জন্য কঠিন আযাবের দরজা খুলে দেবো তখন অকস্মাত তোমরা দেখবে যে, এ অবস্থায় তারা সকল প্রকার কল্যাণ থেকে হতাশ হয়ে পড়েছে। [৭৩]
﴿ وَهُوَ الَّذِىۡۤ اَنۡشَاَ لَكُمُ السَّمۡعَ وَالۡاَبۡصَارَ وَالۡاَفۡـِٕدَةَؕ قَلِيۡلاً مَّا تَشۡكُرُوۡنَ﴾
তিনিই আল্লাহ যিনি তোমাদের শোনার ও দেখার শক্তি দিয়েছেন এবং চিন্তা করার জন্য অন্তঃকরণ দিয়েছেন, কিন্তু তোমরা কমই কৃতজ্ঞ হয়ে থাকো। [৭৪]
﴿ وَهُوَ الَّذِىۡ ذَرَاَكُمۡ فِىۡ الۡاَرۡضِ وَاِلَيۡهِ تُحۡشَرُوۡنَ﴾
তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং তাঁরই কাছে তোমরা একত্র হবে।
﴿ وَهُوَ الَّذِىۡ يُحۡىٖ وَيُمِيۡتُ وَلَهُ اخۡتِلَافُ الَّيۡلِ وَالنَّهَارِؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ﴾
তিনিই জীবন দান করেন এবং তিনিই মৃত্যু দেন, রাতের আবর্তন তাঁরই শক্তির নিয়ন্ত্রণাধীন। [৭৫] একথা কি তোমাদের বোধগম্য হয় না? [৭৬]
﴿ بَلۡ قَالُوۡا مِثۡلَ مَا قَالَ الۡاَوَّلُوۡنَ﴾
কিন্তু তারা সে একই কথা বলে যা তাদের পূর্বের লোকেরা বলেছিল।
﴿ قَالُوۡۤا اَءِذَا مِتۡنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَّعِظَامًا ءَاِنَّا لَمَبۡعُوۡثُوۡنَ﴾
তারা বলে, “যখন আমরা মরে মাটি হয়ে যাবো এবং অস্থি পঞ্জরে পরিণত হবো তখন কি আমাদের পুনরায় জীবিত করে উঠানো হবে?
﴿ لَقَدۡ وُعِدۡنَا نَحۡنُ وَاٰبَآؤُنَا هٰذَا مِنۡ قَبۡلُ اِنۡ هٰذَاۤ اِلَّاۤ اَسَاطِيۡرُ الۡاَوَّلِيۡنَ﴾
আমরা এ প্রতিশ্রুতি অনেক শুনেছি এবং আমাদের পূর্বে আমাদের বাপ-দাদারাও শুনে এসেছে। এগুলো নিছক পুরাতন কাহিনী ছাড়া আর কিছুই নয়। [৭৭]
﴿ قُل لِّمَنِ الۡاَرۡضُ وَمَنۡ فِيۡهَاۤ اِنۡ كُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ﴾
তাদেরকে জিজ্ঞেস করোঃ যদি তোমরা জানো তাহলে বলো এ পৃথিবী এবং এর মধ্যে যারা বাস করে তারা কারা?
﴿ سَيَقُوۡلُوۡنَ لِلّٰهِؕ قُلۡ اَفَلَا تَذَكَّرُوۡنَ﴾
তারা নিশ্চয় বলবে, আল্লাহর। বলো, তাহলে তোমরা সচেতন হচ্ছো না কেন? [৭৮]
﴿ قُلۡ مَنۡ رَّبُّ السَّمٰوٰتِ السَّبۡعِ وَرَبُّ الۡعَرۡشِ الۡعَظِيۡمِ﴾
তাদেরকে জিজ্ঞেস করো, সাত আসমান ও মহান আরশের অধিপতি কে?
﴿ سَيَقُوۡلُوۡنَ لِلّٰهِؕ قُلۡ اَفَلَا تَتَّقُوۡنَ﴾
তারা নিশ্চয়ই বলবে, আল্লাহ। [৭৯] বলো, তাহলে তোমরা ভয় করো না কেন? [৮০]
﴿ قُلۡ مَنۡۢ بِيَدِهٖ مَلَكُوۡتُ كُلِّ شَىۡءٍ وَّهُوَ يُجِيۡرُ وَلَا يُجَارُ عَلَيۡهِ اِنۡ كُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ﴾
তাদেরকে জিজ্ঞেস করো, বলো যদি তোমরা জেনে থাকো, কার কর্তৃত্ব [৮১] চলছে প্রত্যেকটি জিনিসের ওপর? আর কে তিনি যিনি আশ্রয় দেন এবং তাঁর মোকাবিলায় কেউ আশ্রয় দিতে পারে না?
﴿ سَيَقُوۡلُوۡنَ لِلّٰهِؕ قُلۡ فَاَنّٰى تُسۡحَرُوۡنَ﴾
তারা নিশ্চয়ই বলবে, এ বিষয়টি তো আল্লাহরই জন্য নির্ধারিত। বলো, তাহলে তোমরা বিভ্রান্ত হচ্ছো কোথায় থেকে? [৮২]
﴿بَلۡ اَتَيۡنٰهُمۡ بِالۡحَقِّ وَاِنَّهُمۡ لَكٰذِبُوۡنَ﴾
যা সত্য তা আমি তাদের সামনে এনেছি এবং এরা যে মিথ্যেবাদী এতে কোন সন্দেহ নেই। [৮৩]
﴿ مَا اتَّخَذَ اللّٰهُ مِنۡ وَّلَدٍ وَّمَا كَانَ مَعَهٗ مِنۡ اِلٰهٍ اِذًا لَّذَهَبَ كُلُّ اِلٰهٍۭ بِمَا خَلَقَ وَلَعَلَا بَعۡضُهُمۡ عَلٰى بَعۡضٍؕ سُبۡحٰنَ اللّٰهِ عَمَّا يَصِفُوۡنَۙ﴾
আল্লাহ কাউকে নিজের সন্তানে পরিণত করেননি [৮৪] এবং তাঁর সাথে অন্য কোন ইলাহও নেই। যদি থাকতো তাহলে প্রত্যেক ইলাহ নিজের সৃষ্টি নিয়ে আলাদা হয়ে যেতো এবং তারপর একজন অন্যজনের ওপর চড়াও হতো। [৮৫] এরা যেসব কথা তৈরী করে তা থেকে আল্লাহ পাক-পবিত্র।
﴿ عٰلِمِ الۡغَيۡبِ وَالشَّهَادَةِ فَتَعٰلٰى عَمَّا يُشۡرِكُوۡنَ﴾
প্রকাশ্য ও গোপন সবকিছু তিনি জানেন। [৮৬] এরা যে শিরক নির্ধারণ করে তিনি তার ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
﴿ قُل رَّبِّ اِمَّا تُرِيَنِّىۡ مَا يُوۡعَدُوۡنَۙ﴾
হে মুহাম্মাদ (সাঃ) ! দোয়া করো, “হে আমার রব! এদেরকে যে আযাবের হুমকি দেয়া হচ্ছে, তুমি যদি আমার উপস্থিতিতে সে আযাব আনো
﴿ رَبِّ فَلَا تَجۡعَلۡنِىۡ فِىۡ الۡقَوۡمِ الظّٰلِمِيۡنَ﴾
তাহলে হে পরওয়ারদিগার! আমাকে এ জালেমদের অন্তর্ভুক্ত করো না। [৮৭]
﴿ وَاِنَّا عَلٰٓى اَنۡ نُّرِيَكَ مَا نَعِدُهُمۡ لَقٰدِرُوۡنَ﴾
আর আসল ব্যাপার হচ্ছে, তোমরা চোখের সামনে আমার সে জিনিস আনার পূর্ণ শক্তি আছে যার হুমকি আমি তাদেরকে দিচ্ছি।
﴿ ادۡفَعۡ بِالَّتِىۡ هِىَ اَحۡسَنُ السَّيِّئَةَؕ نَحۡنُ اَعۡلَمُ بِمَا يَصِفُوۡنَ﴾
হে মুহাম্মাদ (সাঃ) ! মন্দকে দূর করো সর্বোত্তম পদ্ধতিতে। তারা তোমার সম্পর্কে যেসব কথা বলে তা আমি খুব ভালো করেই জানি।
﴿وَقُل رَّبِّ اَعُوۡذُ بِكَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّيٰطِيۡنِۙ﴾
আর দোয়া করো, “হে আমার রব! আমি শয়তানদের উস্কানি থেকে তোমার আশ্রয় চাই।
﴿وَاَعُوۡذُ بِكَ رَبِّ اَنۡ يَّحۡضُرُوۡنِ﴾
এমনকি হে! পরওয়ারদিগার, সে আমার কাছে আসুক এ থেকেও তো আমি তোমার আশ্রয় চাই।” [৮৮]
﴿ حَتّٰٓى اِذَا جَآءَ اَحَدَهُمُ الۡمَوۡتُ قَالَ رَبِّ ارۡجِعُوۡنِۙ﴾
(এরা নিজেদের কৃতকর্ম থেকে বিরত হবে না) এমনকি যখন এদের কারোর মৃত্যু উপস্থিত হবে তখন বলতে থাকবে, “হে আমার রব! যে দুনিয়াটা আমি ছেড়ে চলে এসেছি সেখানেই আমাকে ফেরত পাঠিয়ে দাও, [৮৯]
﴿لَعَلِّىۡۤ اَعۡمَلُ صٰلِحًا فِيۡمَا تَرَكۡتُؕ كَلَّاؕ اِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَآٮِٕلُهَاؕ وَمِنۡ وَّرَآٮِٕهِمۡ بَرۡزَخٌ اِلٰى يَوۡمِ يُبۡعَثُوۡنَ﴾
আশা করি এখন আমি সৎকাজ করবো। [৯০] কখনোই নয়, [৯১] এটা তার প্রলাপ ছাড়া আর কিছু আর নয়। [৯২] এখন এ মৃতদের পেছনে প্রতিবন্ধক হয়ে আছে একটি অন্তরবর্তীকালীন যুগ—বরযখ যা পরবর্তী জীবনের দিন পর্যন্ত থাকবে। [৯৩]
﴿ فَاِذَا نُفِخَ فِىۡ الصُّوۡرِ فَلَاۤ اَنۡسَابَ بَيۡنَهُمۡ يَوۡمَٮِٕذٍ وَّلَا يَتَسَآءَلُوۡنَ﴾
তারপর যখনই শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, তখন তাদের মধ্যে আর কোন আত্মীয়তা বা সম্পর্কে থাকবে না এবং তারা পরস্পরকে জিজ্ঞেসও করবে না। [৯৪]
﴿ فَمَنۡ ثَقُلَتۡ مَوازِيۡنُهٗ فَاُولٰٓٮِٕكَ هُمُ الۡمُفۡلِحُوۡنَ﴾
সে সময় যাদের পাল্লা ভারী হবে [৯৫] তারাই সফলকাম হবে।
﴿ وَمَنۡ خَفَّتۡ مَوازِيۡنُهٗ فَاُولٰٓٮِٕكَ الَّذِيۡنَ خَسِرُوۡۤا اَنۡفُسَهُمۡ فِىۡ جَهَنَّمَ خٰلِدُوۡنَۚ﴾
আর যাদের পাল্লা হাল্কা হবে তারাই হবে এমনসব লোক যারা নিজেদেরকে ক্ষতির মধ্যে নিক্ষেপ করেছে। [৯৬] তারা জাহান্নামে থাকবে চিরকাল।
﴿ تَلۡفَحُ وُجُوۡهَهُمُ النَّارُ وَهُمۡ فِيۡهَا كٰلِحُوۡنَ﴾
আগুন তাদের মুখের চামড়া জ্বালিয়ে দেবে এবং তাদের চোয়াল বাইরে বের হয়ে আসবে। [৯৭]
﴿ اَلَمۡ تَكُنۡ اٰيٰتِىۡ تُتۡلٰى عَلَيۡكُمۡ فَكُنۡتُمۡ بِهَا تُكَذِّبُوۡنَ﴾
----“তোমরা কি সেসব লোক নও যাদের কাছে আমার আয়াত শুনানো হলেই বলতে এটা মিথ্যা?”
﴿ قَالُوۡا رَبَّنَا غَلَبَتۡ عَلَيۡنَا شِقۡوَتُنَا وَكُنَّا قَوۡمًا ضَآلِّيۡنَ﴾
তারা বলবে, “হে আমাদের রব! আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদের ওপর ছেয়ে গিয়েছিল, আমরা সত্যিই ছিলাম বিভ্রান্ত সম্প্রদায়।
﴿ رَبَّنَاۤ اَخۡرِجۡنَا مِنۡهَا فَاِنۡ عُدۡنَا فَاِنَّا ظٰلِمُوۡنَ﴾
হে পরওয়ারদিগার! এখন আমাদের এখান থেকে বের করে দাও, আমরা যদি আবার এ ধরনের অপরাধ করি তাহলে আমরা জালেম হবো।
﴿ قَالَ اخۡسَـُٔوۡا فِيۡهَا وَلَا تُكَلِّمُوۡنِ﴾
আল্লাহ জবাব দেবেন, দূর হয়ে যাও আমার সামনে থেকে, পড়ে থাকো ওরি মধ্যে এবং কথা বলো না আমার সাথে। [৯৮]
﴿ اِنَّهٗ كَانَ فَرِيۡقٌ مِّنۡ عِبَادِىۡ يَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَاۤ اٰمَنَّا فَاغۡفِرۡ لَنَا وَارۡحَمۡنَا وَاَنۡتَ خَيۡرُ الرّٰحِمِيۡنَۖۚ﴾
তোমরা হচ্ছো তারাই, যখন আমার কিছু বান্দা বলতো, হে আমাদের রব! আমরা ঈমান এনেছি, আমাদের মাফ করে দাও, আমাদের প্রতি করুণা করো, তুমি সকল করুণাশীলের চাইতে বড় করুণাশীল,
﴿ فَاتَّخَذۡتُمُوۡهُمۡ سِخۡرِيًّا حَتّٰٓى اَنۡسَوۡكُمۡ ذِكۡرِىۡ وَكُنۡتُمۡ مِّنۡهُمۡ تَضۡحَكُوۡنَ﴾
তখন তোমরা তাদেরকে বিদ্রূপ করতে, এমনকি তাদের প্রতি জিদ তোমাদের আমার কথাও ভুলিয়ে দেয় এবং তোমরা তাদেরকে নিয়ে হাসিঠাট্টা করতে থাকতে।
﴿ اِنِّىۡ جَزَيۡتُهُمُ الۡيَوۡمَ بِمَا صَبَرُوۡۤاۙ اَنَّهُمۡ هُمُ الۡفَآٮِٕزُوۡنَ﴾
আজ তাদের সে সবের ফল আমি এই দিয়েছি যে, তারাই সফলকাম। [৯৯]
﴿ قٰلَ كَمۡ لَبِثۡتُمۡ فِىۡ الۡاَرۡضِ عَدَدَ سِنِيۡنَ﴾
তারপর আল্লাহ তাদেরকে জিজ্ঞেস করবেন, বলো, পৃথিবীতে তোমরা কত বছর থাকলে?
﴿ قَالُوۡا لَبِثۡنَا يَوۡمًا اَوۡ بَعۡضَ يَوۡمٍ فَسۡـَٔلِ الۡعَآدِّيۡنَ﴾
তারা বলবে, “এক দিন বা দিনেরও কিছু অংশে আমরা সেখানে অবস্থান করেছিলাম, [১০০] গণনাকারীদেরকে জিজ্ঞেস করে নিন।”
﴿ قٰلَ اِنۡ لَّبِثۡتُمۡ اِلَّا قَلِيۡلاً لَّوۡ اَنَّكُمۡ كُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ﴾
বলবেন, “অল্পক্ষণই অবস্থান করেছিলে, হায়! যদি তোমরা একথা সে সময় জানতে। [১০১]
﴿ اَفَحَسِبۡتُمۡ اَنَّمَا خَلَقۡنٰكُمۡ عَبَثًا وَّاَنَّكُمۡ اِلَيۡنَا لَا تُرۡجَعُوۡنَ﴾
তোমরা কি মনে করেছিলে আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি [১০২] এবং তোমাদের কখনো আমার দিকে ফিরে আসতে হবে না?”
﴿ فَتَعٰلَى اللّٰهُ الۡمَلِكُ الۡحَقُّۚ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَۚ رَبُّ الۡعَرۡشِ الۡكَرِيۡمِ﴾
কাজেই প্রকৃত বাদশাহ আল্লাহ হচ্ছেন উচ্চতর ও উন্নততর, [১০৩] তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, সম্মানিত আরশের তিনিই মালিক
﴿ وَمَنۡ يَّدۡعُ مَعَ اللّٰهِ اِلٰهًا اٰخَرَۙ لَا بُرۡهَانَ لَهٗ بِهٖۙ فَاِنَّمَا حِسَابُهٗ عِنۡدَ رَبِّهٖۤؕ اِنَّهٗ لَا يُفۡلِحُ الۡكٰفِرُوۡنَ﴾
এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অন্য কোন মাবুদকে ডাকে, যার পক্ষে তার কাছে কোন যুক্তি প্রমাণ নেই, [১০৪] তার হিসেব রয়েছে তার রবের কাছে। [১০৫] এ ধরনের কাফের কখনো সফলকাম হতে পারে না। [১০৬]
﴿ وَقُل رَّبِّ اغۡفِرۡ وَارۡحَمۡ وَاَنۡتَ خَيۡرُ الرّٰحِمِيۡنَ﴾
হে মুহাম্মাদ (সাঃ) ! বলো, “হে আমার রব! ক্ষমা করো ও করুণা করো এবং তুমি সকল করুণাশীলের চাইতে বড় করুণাশীল।” [১০৭]